সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল, নাকি তাকে সুপরিকল্পিতভাবে 'স্লো পয়জনিং' বা ধীরে ধীরে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলে ধরেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোবায়েদুর রহমান। তার এক উপসম্পাদকীয়তে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন সময়ের অভিযোগ এবং বেগম জিয়ার কারাবাসের সময়কার পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করেছেন।
জনসমুদ্র ও ভালোবাসা বেগম জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি দেশের মানুষের কতটা আপন ছিলেন। লেখক উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজার পর এটিই ছিল দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা। ক্ষমতার বাইরে থেকেও দীর্ঘ ৬ বছর পর এমন জনসমর্থন তার অটুট জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।
স্লো পয়জনিংয়ের অভিযোগ নিবন্ধে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
-
মির্জা ফখরুল: গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধামরাইয়ের এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, কারাগারে থাকাকালীন বেগম জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল, যার ফলে তার শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে।
-
মির্জা আব্বাস: গত ২৯ নভেম্বর তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, একজন ভারতীয় সাংবাদিক তাকে জানিয়েছিলেন যে বেগম জিয়ার মৃত্যু এমনভাবে 'ডিজাইন' করা হয়েছে যাতে তিনি ধীরে ধীরে মারা যান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে অভিযোগ করেন যে, বেগম জিয়াকে কারাগারে স্লো পয়জনিং করা হয়েছিল।
-
খায়রুল কবির খোকন: তিনিও অভিযোগ করেন যে, সুস্থ অবস্থায় কারাগারে যাওয়া বেগম জিয়াকে সেখানে মানসিক যন্ত্রণা ও বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
কারাবাসের করুণ চিত্র নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে যখন তিনি কারাগারে যান, তখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। কিন্তু পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত ও স্যাঁতসেঁতে কারাগারে তাকে রাখা হয়, যেখানে ইঁদুরের উপদ্রব ছিল। সেখানে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, যা তার স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটায়।
প্রতিশোধ নয়, শান্তি এত নির্যাতন ও অবিচারের শিকার হয়েও বেগম জিয়া কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও তিনি শান্ত ও অহিংস থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার এই উদারতা ও সহনশীলতাই তাকে 'মাদার অব ডেমোক্রেসি' বা গণতন্ত্রের মা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি রাখে, কারণ একটি দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে এমন রহস্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।



















