ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ সফরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রোমে এফএও সদর দপ্তরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাংলাদেশ সফরে আসার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। সোমবার ইতালির রাজধানী রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্টে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানান প্রেসিডেন্ট লুলা।
রোমের এফএও সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা পারস্পরিক আগ্রহের নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে সামাজিক ব্যবসা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, দারিদ্র্য মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের কৌশল।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রেসিডেন্ট লুলাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সফরের আমন্ত্রণ জানান। লুলা আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বলেন, “আমি বাংলাদেশে যাবো। তিনি জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তিনি এই সফর সম্পন্ন করতে চান।
ব্রাজিল তার নাগরিকদের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করতে চায়। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। অধ্যাপক ইউনূস এ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটি হবে অসাধারণ।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, ওষুধ উৎপাদন, টিকা পেটেন্টমুক্ত ও সাশ্রয়ী করা, এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পারস্পরিক উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনের প্রসঙ্গও উঠে আসে, যা গণতন্ত্র ও পরিবর্তনের এক নতুন ধারা সূচিত করেছে বলে উল্লেখ করেন দুই নেতা।
অধ্যাপক ইউনূস বৈঠকে তার ব্রাজিল সফরের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।
প্রেসিডেন্ট লুলা অধ্যাপক ইউনূসকে আগামী বছর অ্যামাজন অঞ্চলে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩০)-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তার ভাষায়, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় উষ্ণমণ্ডলীয় বনাঞ্চল রক্ষার লড়াইয়ে বৈশ্বিক মনোযোগ তৈরি করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।”
তবে অধ্যাপক ইউনূস জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তিনি ব্যস্ত থাকবেন, তাই কপ৩০-এ যোগ দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে, কারণ এটি গত ১৬ বছরে দেশের প্রথম সুষ্ঠু নির্বাচন।
অতীতে স্বৈরশাসকের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো ছিল ভুয়া ও কারচুপিপূর্ণ। এবার মানুষ সত্যিকারের গণতন্ত্র দেখতে পাবে।
বৈঠকের আরেক পর্যায়ে অধ্যাপক ইউনূস ও প্রেসিডেন্ট লুলা ফুটবলকে বৈশ্বিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। হাস্যরসের ছলে ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে ব্রাজিল দলের অসংখ্য সমর্থক রয়েছে। বলা যায়, ব্রাজিল বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল।
এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, এবং ব্রাজিল সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
বৈঠক শেষে দুই নেতা একমত হন যে, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি এবং সামাজিক খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে।