বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে নাহিদ ইসলাম..

MD MEHEDI MRIDHA avatar   
MD MEHEDI MRIDHA
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে নাহিদ ইসলাম..
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে নাহিদ ইসলাম..
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।..

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই ঘটনা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। 

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

 

অভিযোগ উঠেছে, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, যার প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। কিছু কর্মকর্তা, বিশেষত যারা র‍্যাব বা ডিজিফাই এ দায়িত্বে ছিলেন, তারা গুম, খুন, ক্রসফায়ারসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন। এমনকি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র জনগণের উপর গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। 

 

সেনাবাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বিশেষত জুলাই-আগস্টের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসার ও সৈনিকরা জনগণের পাশে থেকে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তবে, সেনাবাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ একটি গুরুতর বিষয়, যা সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও জনগণের আস্থার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। 

 

গণতন্ত্রের দীর্ঘ ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক দলীয়করণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের সামনে এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কমুক্ত করা, পুনর্গঠন করা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বন্ধ করা। 

 

সেনাবাহিনীকে কলঙ্কমুক্ত করতে হলে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে। সেনানেতৃত্ব এ বিষয়ে সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেই আশা করা যায়। এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইগো বা মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। 

 

এখন আমাদের লক্ষ্য ন্যায়বিচার অর্জন করা এবং দূর্নীতি ও দূর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা। আমরা চাই না বিচারব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী কোনোভাবেই মুখোমুখি অবস্থানে থাকুক। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীগুলো চায় সংঘাত ঘটুক, যাতে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে তাদের স্বার্থ রক্ষা হয়। 

 

আমরা রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপ যেমন চাই না, তেমনি সেনাবাহিনীসহ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বা হস্তক্ষেপও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ দেখতে চাই। দেশপ্রেম, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হওয়া উচিত। 

 

আমরা ৫ আগস্ট থেকে দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্য রক্ষার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। স্থিতিশীলতা বজায় রেখেই আমরা সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনের পথে এগোচ্ছি। আমাদের সব প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি, কিন্তু গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ঘটেছে।

Không có bình luận nào được tìm thấy


News Card Generator