আ'ফগা'নিস্তা'ন-রাশিয়া কৌশলগত বৈঠক: বাগ্রাম ঘাঁটি অনুমোদন নয়, মা'দ'ক দমনে জোর....

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আ'ফগা'নিস্তা'ন-রাশিয়া কৌশলগত বৈঠক: বাগ্রাম ঘাঁটি অনুমোদন নয়, মা'দ'ক দমনে জোর....
আ'ফগা'নিস্তা'ন-রাশিয়া কৌশলগত বৈঠক: বাগ্রাম ঘাঁটি অনুমোদন নয়, মা'দ'ক দমনে জোর....
তালিবানকে স্বীকৃতির পর প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছে আফগানিস্তান ও রাশিয়া। মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা এবং আফগান ভূমিতে সামরিক ঘাঁটি না রাখার অঙ্গীকার।....

সাম্প্রতিককালে আফগানিস্তানের তালিবান সরকারকে রাশিয়ার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর মস্কো এবং কাবুলের মধ্যে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। সেই স্বীকৃতির পরই দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে বেশ কয়েকবার আলোচনা হওয়ার খবর আসে। এই প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের প্রতিনিধিদল সরাসরি বৈঠকে বসেছে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

এই কৌশলগত আলোচনায় আফগান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অংশগ্রহণ করেন। দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার বিষয়গুলি এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। আন্তর্জাতিক মহল এই বৈঠককে মধ্য এশিয়ার ভূ-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছে।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই বৈঠকে আফগানিস্তানে মাদক, সন্ত্রাস এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়াতে তার দেশের প্রস্তুতির কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগান নাগরিকদের জন্য একটি শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। মস্কোর এই ঘোষণা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তালিবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী এই বৈঠকে আফগান আমিরাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ায় মস্কোর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যখন বহু দেশ এখনও তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে, তখন রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে আফগান সরকার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে।

এই বৈঠকের সবচেয়ে বিতর্কিত ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল বাগ্রাম ঘাঁটি নিয়ে দেওয়া তালিবানের স্পষ্ট বার্তা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, কোনো পরিস্থিতিতেই আফগানিস্তানের মাটিতে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অনুমোদন করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো বাগ্রাম বিমান ঘাঁটির মতো কোনো সামরিক উপস্থিতিকে আফগান সরকার প্রশ্রয় দেবে না বলে তিনি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন।

তালিবানের এই অবস্থানের বিপরীতে রাশিয়ার বিশেষ দূত জামির কাবুলভ মস্কোর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করেন যে আফগানিস্তানে সামরিক ঘাঁটি খোলার কোনো পরিকল্পনা নেই। বিদেশি সামরিক উপস্থিতি প্রশ্নে আফগানিস্তান এবং রাশিয়ার এই অভিন্ন অবস্থান আঞ্চলিক নিরাপত্তায় একটি নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই বৈঠকের পাশাপাশি আরও একটি আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া, চীন, ইরান এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা এক বৈঠকে ঘোষণা করেন যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য আফগানিস্তানকে অবশ্যই সন্ত্রাসমুক্ত হতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে আফগান সমস্যা এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।

পাকিস্তানের বিশেষ দূত সেই বৈঠকে উল্লেখ করেন যে সব দেশ মিলে সন্ত্রাস দমনে সমন্বিত পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে, আফগানিস্তানে বর্তমানে যে মারাত্মক মানবিক সংকট চলছে, সেই বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সংকট নিরসনে পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, তালিবান ও রাশিয়া কর্তৃক বিদেশি সামরিক উপস্থিতি না দেওয়ার ইস্যুতে একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস পুনরায় খোলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এসেছে, তবুও সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে রাশিয়া-তালিবান ঐক্যমত্য আপাতত আঞ্চলিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করবে।

No comments found


News Card Generator