দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ থেকে মুক্তির দাবিতে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জ। ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং পহেলা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তা কার্যকরের দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শেষ হয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত টানা তিন দিনব্যাপী এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার একটি প্রচলিত নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণার পর এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বর্তমান বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সরকারি কর্মচারীদের জন্য ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বাসাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে কর্মচারী-কর্মকর্তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ অবস্থায় দ্রুত ৯ম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই বলে মত দেন তারা।
সমাবেশ থেকে দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. রেজাউর রহমান টুটু, সাধারণ সম্পাদক ও কালেক্টরেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি মো. মইনুল হোসেন খন্দকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরে আলম হোসেন, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী সমন্বয়ক মো. কামরুজ্জামান, পোস্ট অফিস কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হালিমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী নেতৃবৃন্দ।
সরকারি কর্মচারীদের এই আন্দোলন ঘিরে জেলার প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে কবে এবং কীভাবে এই দাবির প্রতিফলন ঘটে।



















