বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ১৯৭১ সালের চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করছে এবং দেশকে একটি উগ্রবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্র করছে। তবে এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতেই রাশিয়া ও ভারতের ‘সবুজ সংকেত’ নিয়ে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
‘১৯৭১-এর চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি’ রনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ১৬-১৭ মাসে বাংলাদেশের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও সামাজিক সংহতি যেভাবে হুমকির মুখে পড়েছে, তা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের চেয়েও খারাপ। একাত্তরে ভয় ছিল কেবল পাকিস্তানি হানাদারদের, যা ছিল শহরকেন্দ্রিক। কিন্তু বর্তমানে দেশের ৬৮ হাজার গ্রামের প্রতিটি জনপদে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের নিজেদের মধ্যই তৈরি হয়েছে ‘শ্রেণী শত্রু’, যারা হায়েনার মতো মানুষের জীবন ও সম্পদ তছনছ করছে’’।
পাকিস্তান ও তুরস্কের ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ ভিডিওতে রনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তান এবং তুরস্ক বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাড়াবাড়ি রকমের হস্তক্ষেপ করছে। আইএসআই-এর এজেন্টরা ইউটিউবারদের ব্যবহার করে বাঙালি জাতিকে একটি ‘অসভ্য ও অশ্লীল’ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে খেলাফত বা আমিরাত ধাঁচের একটি কট্টর ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম করা, যা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
ত্রাতা রাশিয়া ও তারেক রহমানের ফেরা সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবি হিসেবে রনি বলেন, ১৯৭১ সালে যেমন রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে এসেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৫ সালেও ভ্লাদিমির পুতিনের রাশিয়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার পেছনে রাশিয়া এবং ভারতের কূটনৈতিক মহলের ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ও প্রটেকশন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রনি বলেন, ‘‘তারেক রহমানের এই আগমন সমস্ত ছক উল্টে দিয়েছে। তাকে প্রটেকশন দিয়ে পাঠানো হয়েছে যাতে দেশে একটি রাজনৈতিক ভারসাম্য ফিরে আসে এবং উগ্রবাদী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়’’।
জনগণের মোহভঙ্গ ও রাজনৈতিক সমাধান জুলাই বিপ্লব পরবর্তী হতাশা তুলে ধরে রনি বলেন, মানুষ এখন মনে করছে ‘‘আগেই ভালো ছিলাম’’। জনগণ এখন আর বিপ্লবী সরকার বা অরাজকতা চায় না; তারা চায় সব দলের অংশগ্রহণে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা এবং দ্রুত নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের উপস্থিতি রাজনীতিতে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।
গোলাম মাওলা রনির এই বিশ্লেষণ বর্তমান ভূ-রাজনীতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।



















