ধর্ষকদের ধরুন, আমাদের হয়রানি নয়: উত্তরপ্রদেশের নারীর সাহসী প্রতিবাদ..
ধর্ষকদের ধরুন, আমাদের হয়রানি নয়: উত্তরপ্রদেশের নারীর সাহসী প্রতিবাদ..
ভারতে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন এবং এর প্রতিকারে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে এক প্রতিবাদী নারীর দৃপ্ত উচ্চারণ সারা বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, যা একদিকে যেমন পুলিশি ব্যবস্থার প্রতি জনগনের আস্থাহীনতাকে তুলে ধরেছে, তেমনি অন্যদিকে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের প্রতি হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত ধর্ষকদের ধরার দাবি জানাচ্ছেন ভিডিওতে ওই প্রতিবাদী নারীকে বলতে শোনা যায়, "আমাদের হয়রানি না করে ধর্ষকদের ধরলে ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে" এই বাক্যটি কেবল একটি প্রতিবাদী স্লোগান নয়, বরং এটি ভারতের মতো বহু দেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচলিত পদ্ধতির প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ ভুক্তভোগীদের বা প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করার পরিবর্তে যদি অপরাধীদের ধরতে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানো হয়, তবেই এই ধরনের জঘন্য অপরাধ কমে আসবে—এই মূল বার্তাটিই তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার এই সাহসী পদক্ষেপ সমাজের সেই অংশের প্রতিচ্ছবি, যারা দিনের পর দিন বিচারহীনতার শিকার এবং যাদের কণ্ঠস্বর প্রায়শই চেপে রাখা হয় এটি প্রমাণ করে, নারীরা এখন তাদের অধিকার আদায়ে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে ভীত নন এই ঘটনা কেবল উত্তরপ্রদেশের স্থানীয় সমস্যা নয়, এটি বিশ্বজুড়ে নারী নির্যাতন এবং বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি প্রতীকী চিত্র প্রায়শই দেখা যায়, ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশি তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা, অভিযুক্তদের প্রভাবশালীদের দ্বারা রক্ষা পাওয়া এবং অনেক ক্ষেত্রে উল্টো ভুক্তভোগীদেরই নানান হয়রানির শিকার হতে হয় উত্তরপ্রদেশের এই নারীর প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর তাই শুধু একটি অঞ্চলের নয়, বরং প্রতিটি সমাজের সেই নারীদের প্রতিনিধিত্ব করে, যারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রের কাছে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানায় তার এই বার্তা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নারী সুরক্ষায় তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে এবং প্রকৃত অর্থে অপরাধ দমনে মনোযোগী হতে বাধ্য করবে বলে আশা করা যায় এই ধরনের ঘটনাগুলি সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে বাধ্য করে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়তা করে যখন রাষ্ট্র বা তার প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তাদের হয়রানি করে, তখন জনমনে কেবল ক্ষোভই তৈরি হয় না, বরং আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতিও আস্থা কমে যায় উত্তরপ্রদেশের এই নারীর নির্ভীক উচ্চারণ তাই শুধু ধর্ষকদের শাস্তি দাবি নয়, বরং একটি নিরাপদ সমাজ, যেখানে নারীরা নির্ভয়ে বাঁচতে পারবে এবং তাদের প্রতি সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের বিচার হবে, সেই অধিকারেরই দাবি জানায় এই বার্তা কর্তৃপক্ষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জনদাবি উপেক্ষা করে প্রকৃত অর্থে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় [সৌজন্যে: @benarasiyaa (𝕏 (Twitter))]