ভাড়রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন
Shorts Skapa
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ভাড়রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) দুপুরে ভাড়রা ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের উদ্যোগে ইউনিয়নের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র ভাড়রা বাজারে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, ভাড়রা ইউনিয়ন (পূর্ব) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান এবং ভাড়রা ইউনিয়ন (পূর্ব) ছাত্রদলের সভাপতি মো. আজিম মিয়া।
বক্তারা বলেন, "ভাড়রা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি—এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।"
মানববন্ধনে বক্তারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ভাড়রা ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
কচুয়ায় নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে দাদা শাহ আলমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
মোঃ রায়হান মিয়া কচুয়া চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজের ১৩ বছর বয়সী নাতনিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড দাদা মোঃ শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১০নং উত্তর গোহট ইউনিয়নের খিলা হাজী বাড়িতে। ভুক্তভোগী মোছাম্মদ জামিলা আক্তার (১৩) ওই গ্রামের শাহাদাত হোসেন সবুজের মেয়ে এবং রহিমানগর মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণীর আবাসিক (বোর্ডিং) ছাত্রী।
পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী জামিলার পিতা-মাতা দীর্ঘ তিন বছর যাবত কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। মেয়ের লেখাপড়ার সুবিধার্থে তাকে রহিমানগর মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে রেখে পড়াশোনা করানো হতো।
শাহ আলমের স্ত্রী দীর্ঘ চার বছর ধরে সৌদি আরব প্রবাসী এবং তার ছোট ছেলে বিপ্লবও বর্তমানে প্রবাসে রয়েছেন। সেই সুবাদে শাহ আলম তার প্রবাসী ছেলে বিপ্লবের শূন্য ঘরে একাকী বসবাস করতেন। গত ২০ মে ২০২৬ ইং তারিখে শাহ আলম জামিলার বাবাকে ফোন দিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বলিয়ে জামিলাকে ঈদের ছুটিতে খিলা গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে গত ২৫ মে ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ১২টার দিকে শাহ আলম তার নাতনি জামিলাকে ডেকে বলে, প্রবাসে থাকা তার দাদীর সাথে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হবে। এই উছিলায় তাকে বিপ্লবের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে জামিলার মুখ চেপে ধরে এবং হাতে থাকা চুরির ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পাষণ্ড দাদা শাহ আলম। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়।
"আমি আমার বাবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই"
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী জামিলা আক্তারের পিতা মোঃ শাহাদাত হোসেন সবুজ বলেন, "আমার নিজের জন্মদাতা বাবা আমার মেয়েকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এনে এই জঘন্যতম কাজ করবে, তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি আমার পাষণ্ড পিতার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জামিলার ছোট চাচী আঁখি আক্তার বলেন, আমার শ্বশুর যে এমন পৈশাচিক ঘটনা ঘটাবেন, তা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। ঘটনাটি শোনার পর আমি স্তব্ধ।
জামিলা আক্তারের মা বলেন, আমার শশুর মোঃ শাহ আলম আমার মেয়ের সাথে যে ঘটনা করেছে আমি দেশবাসী ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।"
এই বিষয়ে কচুয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসামিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।




