আগামী সরকার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্বে এবং নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেই গঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের পেটে লাথি দিয়েছে। যারা আমাদের পেটে লাথি দিয়েছে, তাদের বাংলাদেশ থেকেই নতুন করে শিক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে।’
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে যেভাবে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, এখনো তাঁরা চুপ করে আছেন। তবে আগামীতে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বেই সরকার গঠন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তরুণদের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, গত আট মাসে বরং এক কোটি তরুণের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে এনসিপি ক্ষমতায় গিয়ে তরুণদের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন।
ঢাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁরা নতুন করে ঢাকা গড়ে তুলতে চান। তাঁর অভিযোগ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সিন্ডিকেটের কারণে বর্তমান সরকার ঢাকাকে প্রত্যাশিতভাবে পরিবর্তন করতে পারবে না। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে তাঁরা একচুলও সরে আসবেন না। বরং আরও দ্বিগুণ গতিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মেয়র, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আগ্রহীদের দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে চার দফা দাবি তুলে ধরে এনসিপি। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ, একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, মানবাধিকার ও বাক্স্বাধীনতাবিরোধী আইন বাতিল এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না করা। এ ছাড়া জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন করে তা অবিলম্বে কার্যকর করার দাবিও জানানো হয়।