মামলা করার কথা ভাবছে না তাহসিফের পরিবার, কারণ জানালেন বাবা | আই নিউজ বিডি

মামলা করার কথা ভাবছে না তাহসিফের পরিবার, কারণ জানালেন বাবা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মামলা করার কথা ভাবছে না তাহসিফের পরিবার, কারণ জানালেন বাবা..
মামলা করার কথা ভাবছে না তাহসিফের পরিবার, কারণ জানালেন বাবা..
ছবি: সংগৃহীত
****

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আপাতত মামলা করার কথা ভাবছে না তার পরিবার। মামলা করলে আদালতে দৌড়াদৌড়িসহ নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন তাহসিফের বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তবে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তিনি।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তাহসিফের বাবা। তিনি জানান, মামলা করার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এনায়েতুল করিম বলেন, ‘মামলার ব্যাপারে আমরা এখনো ভাবিনি। আমরা পারিবারিকভাবে এটা আলোচনা করব, পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে মামলার কেন প্রয়োজন হবে? সরকার নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে এবং অত্যন্ত আন্তরিক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মামলা মানেই তো আমাদের দেশে একটা ঝামেলা। কোর্টে দৌড়াদৌড়ি, কে চায় এই ঝামেলার মধ্যে পড়তে? যেখানে আমাদের চমৎকার সরকার রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে আমি ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি, তারা অত্যন্ত দায়িত্ববান এবং অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।’

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাহসিফের বাবা। তিনি বলেন, ‘একজন ডিফেন্স অফিসার পুলিশের ধাওয়াতে দৌড় দেবে, এটা হাস্যকর বক্তব্য না? এটা তো প্রশ্নই আসে না।’

এদিকে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় দীপের দেওয়া তথ্যের সবটুকু বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতের বিষয়ে দীপ বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (উত্তর) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ‘ছায়াতদন্তের একটা পর্যায়ে আমরা জানতে পেরেছি, সাউরি যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তার সঙ্গে একজন বন্ধু ছিলেন। তার নাম দীপ। তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন। দীপ নানা তথ্য দিয়েছেন। আসলে সেই তথ্যগুলোর সব আমরা বিশ্বাসও করি না। প্রতিটি বিষয় আমরা যাচাই করে দেখছি।’

তাহসিফের সঙ্গে দীপের পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়ে তার বাবা জানান, তাহসিফ চাকরি করার সময় পড়াশোনার পাশাপাশি দীপ তার ছোট ব্যবসাটি দেখাশোনা করতেন। বিভিন্ন কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা ছিল তাদের। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। দীপ মাঝেমধ্যে তাদের বাসায় যেতেন এবং খাওয়া-দাওয়া করতেন। এমনকি দীপের বাবা-মা ও ছোট ভাইও একবার তাদের বাসায় এসেছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, তাহসিফ শেষবার তার মাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি রওনা হয়েছেন এবং এখনই বাসায় ফিরবেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার মা সারা রাত অপেক্ষা করেছেন এবং বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।

ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে বাসায় না পেয়ে ফোন করেন। কিন্তু ফোন বন্ধ পান। পরে দুপুরে তুরাগ থানায় খোঁজ নিতে যান। সন্ধ্যার কিছু আগে উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানানো হয়।

তাহসিফের আত্মহত্যার সম্ভাবনা নাকচ করে তার বাবা বলেন, তার ছেলে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ ছিলেন। ওই এলাকায় তিনি কখনো গিয়েছেন বলেও তার জানা নেই। সাধারণত বাইরে গেলে বন্ধুদের সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় যেতেন। তিনি আরও বলেন, তাহসিফ একজন পাইলট ছিলেন এবং দেশের সম্পদ হিসেবে তাকে বিবেচনা করেন।

এদিকে, পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় অবস্থান করেছিলেন। দীপের দাবি, সেখানে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি তদন্তকারীরা।

পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের একটি দল তাদের ধাওয়া দিলে তিনি বিআইডব্লিউটিএর ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। অন্যদিকে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন। পরে সুযোগ বুঝে দীপ সেখান থেকে চলে যান এবং রাত আড়াইটার দিকে বাড়ি ফেরেন।

পুলিশের ধাওয়ার বিষয়ে দীপের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দীপ দাবি করেছেন, দুজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখে তারা দৌড় দিয়েছিলেন। তবে তারা কারা ছিলেন, সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য দায়িত্বে ছিলেন কি না কিংবা আদৌ ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মনে হলে সেসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি। ওই দিন গভীর রাতে মাকে বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানালেও আর ফেরেননি তিনি। পরদিন বুধবার বিকেলে উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। 

Walang nakitang komento


News Card Generator