টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, হুমকিতে আত্মগোপনে পরিবার; দেশ ছাড়ার কথা বাবার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, হুমকিতে আত্মগোপনে পরিবার; দেশ ছাড়ার কথা বাবার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, হুমকিতে আত্মগোপনে পরিবার; দেশ ছাড়ার কথা বাবার..
টঙ্গীতে শিশু নিপীড়নের অভিযোগ, হুমকিতে আত্মগোপনে পরিবার; দেশ ছাড়ার কথা বাবার..
ছবি: সংগৃহীত
****

গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, মামলা ও পাল্টা মামলার ঘটনায় আতঙ্কে আত্মগোপনে রয়েছে শিশুটির পরিবার। এরই মধ্যে শিশুটির বাবা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি দেশ ছেড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় শিশুটির বাবা জানান, একের পর এক হুমকি পাওয়ায় তিনি বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

অডিও বার্তায় ওই অভিভাবক বলেন, তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাক হয়েছে এবং তিনি হাজারো হুমকি পাচ্ছেন। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কেউ নেই।

তবে শিশুটির বাবার এক ঘনিষ্ঠ স্বজনের দাবি, তিনি দেশেই আছেন। পুরো ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বাসা ছেড়েছে শিশুটির পুরো পরিবার

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী সরকারি কলেজ এলাকার শিশুটির বাসায় গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। শিশুটির মা-বাবা ও ভাইবোনেরা বাসায় ছিলেন না। ভেতর থেকে কথা বলেন শিশুটির নানা। জামাতা দেশের বাইরে চলে গেছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তিনি।

বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান জানান, গত দুই দিন শিশুটির বাবাকে ওই বাড়িতে আসতে দেখেননি।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটির সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরে মা-বাবার কাছে বিষয়টি খুলে বলে।

সন্তানের কাছ থেকে ঘটনা জানার পর শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে বাগ্‌বিতণ্ডার পর শিক্ষককে থাপ্পড় ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে টঙ্গী পশ্চিম থানা-পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান।

অভিভাবকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা

শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়।

মামলায় মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। আরেকটি অডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে। জমি কেনার জন্য রাখা ১৭ লাখ টাকা লুটের প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্ত করছে পুলিশ

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, মামলা দুটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে শিশুটির বাবাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলে জানান তিনি।

শিশুটির প্রতি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী মারধর ও লুটপাটের পাল্টা অভিযোগ—দুই বিষয়েই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

Walang nakitang komento


News Card Generator