কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর ও স্কুলশিক্ষক মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর ও স্কুলশিক্ষক মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর ও স্কুলশিক্ষক মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার..
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ জনের মরদেহ হস্তান্তর ও স্কুলশিক্ষক মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার..
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি দীর্ঘ ১০ দিনের অনুসন্ধান শেষে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন জাহা..

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে সংগঠিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ দিনের মাথায় নিহত ১০ জনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান ও সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত সোমবার ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহত ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। রিসোর্টটির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তা পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ত্রুটিকেই জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের উৎস এবং রিসোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিহতদের মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীন স্বজনদের আহাজারিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার শ্যামলী ও বনশ্রী এলাকার দুটি পরিবারের মোট ১০ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুসহ তরুণ শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এর মধ্যে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষক নাসরিন জাহান মুক্তার ডিএনএ নমুনার সাথে উদ্ধার হওয়া ১০টি মরদেহের কোনোটিরই মিল না পাওয়ায় তার পরিণতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে একটি দেহাবশেষ উদ্ধার করে। মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সালের শনাক্তকরণ এবং গলার স্বর্ণের চেইন দেখে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, এটিই সেই নিখোঁজ শিক্ষিকার দেহাবশেষ। তবে চূড়ান্ত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেহাবশেষটির পুনরায় ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং জরুরি নির্গমন পথের অভাবে তাদের স্বজনরা আগুনের গ্রাস থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাননি, যা এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করছে।

ঘটনার পর থেকেই রিসোর্ট মালিক মোহাম্মদ তানভীর সুলতান মিয়া এবং নেওয়াজ মোর্শেদ পলাতক রয়েছেন, যা প্রশাসনের তদন্ত কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানিয়েছেন, এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ, সিআইডি ও এসআরবি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আকতার জানান, মুক্তার সন্ধানে পুনরায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রশাসনিকভাবে দায়সারা গোছের উদ্ধার অভিযানের চেয়েও রিসোর্টগুলোর লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা যাচাইয়ে কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আশ্বাস দেওয়া হলেও, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে।

এই ট্র্যাজেডি কেবল ১০টি প্রাণ কেড়ে নেয়নি, বরং পর্যটন খাতে নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের আস্থার সংকট তৈরি করেছে। বিলাসবহুল রিসোর্টগুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা এবং অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দায়িত্বহীন রিসোর্ট মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। নিহতদের পরিবারের জন্য এই ক্ষতি অপূরণীয়, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণই পারে ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি রোধ করতে। সাধারণ মানুষ এখন কেবল প্রশাসনিক শোকবার্তা নয়, বরং অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের প্রতীক্ষায় রয়েছে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator