বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..

Roman Rahman avatar   
Roman Rahman
বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..
বাংলাদেশের পাঁচ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান..
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের টোকিওতে আয়োজিত অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের আহ্বান জানিয়েছেন।..

বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে জাপানের টোকিওতে জেট্রো হলে আয়োজিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জাপানি উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দীর্ঘ পাঁচ দশকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি খাত, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ—এই পাঁচটি খাতকে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায়, প্রধানমন্ত্রী আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা ইপিএ স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা এবং জাপানি পণ্য ও যন্ত্রাংশের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী সরকার গৃহীত বিভিন্ন সংস্কারমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শুল্ক ও কর কাঠামোর পূর্বাভাসহীনতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তা নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। টয়োটার মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ কোটির বিশাল বাজার এবং ২৭ বছরের গড় বয়সের তরুণ শ্রমশক্তি বাংলাদেশের অনন্য সম্পদ। বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তা প্রদান এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলে মানদণ্ড অনুযায়ী বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে জাপানকে আরও সক্রিয় হতে হবে। উদ্যোক্তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে সরকার নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে।

অনুষ্ঠানে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা উপস্থিত থেকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য গৃহীত সংস্কারসমূহ উপস্থাপন করেন। এছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি এবং ওয়াইকেকে কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাপানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, মহাকাশ গবেষণা থেকে শুরু করে উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণে জাপানের কারিগরি সহায়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

পরিশেষে, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয়ে একটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ আগামী দিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তর করবে। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ভোক্তা অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনে সহায়ক হবে। জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্থিতিশীল এবং লাভজনক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ, যার ওপর ভিত্তি করেই আগামী কয়েক দশকের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি রচিত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator