শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির সংকট: আধুনিক শিক্ষায় মান নিশ্চিতের দাবি.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির সংকট: আধুনিক শিক্ষায় মান নিশ্চিতের দাবি..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির সংকট: আধুনিক শিক্ষায় মান নিশ্চিতের দাবি..
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির সংকট: আধুনিক শিক্ষায় মান নিশ্চিতের দাবি..
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের যোগ্যতা যাচাই ও আধুনিক পাঠ্যক্রমের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি উঠেছে।..

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মানহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ এবং জবাবদিহির চরম অভাব। বর্তমানে মাদ্রাসাসহ দেশের সকল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়ন এখন সময়ের বড় দাবি হয়ে উঠেছে। একটি শিশুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর মূল উদ্দেশ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, বরং তাকে নৈতিক, মানবিক ও যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের যোগ্যতা ও আচরণ যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না এবং বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিশিক্ষাকে অবহেলা করা হয়, তখন শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। ধর্মীয় পরিচয় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ঢাকার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়, বরং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ হলো, অনেক ক্ষেত্রেই ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও শৃঙ্খলাহীনতা আড়াল করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে শিশু নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন কিংবা শিক্ষকের অনৈতিক আচরণের ঘটনাগুলো অনেক সময় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা শিশুর মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। অভিভাবকরা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ জানানোর কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা নেই এবং নিয়মিত তদারকির অভাবে শিক্ষকরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছেন। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি বিবেকবোধ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাব শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আচরণের ওপর নিয়মিত তদারকি না থাকায় ভুক্তভোগী শিশুরা দীর্ঘমেয়াদী ট্রমার শিকার হচ্ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নজরদারি এবং স্বচ্ছ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা জরুরি। মাদ্রাসা, স্কুল বা কলেজ নির্বিশেষে সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকেই জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট মহল দাবি করছে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ধর্মীয় সনদ নয়, বরং তাদের মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতা, আধুনিক শিক্ষায় দক্ষতা এবং শিশুর সুরক্ষায় পারদর্শিতা যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিদর্শন জোরদার করতে হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন, যাতে সন্তানকে ভর্তি করানোর আগে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও সুরক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে তারা সম্যক ধারণা নিতে পারেন।

পরিশেষে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল সনদধারী নাগরিক তৈরি করা নয়, বরং তাদের সৎ, আত্মনির্ভরশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। যদি প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা না যায় এবং শিশুদের নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হয়, তবে তা দেশের আগামীর মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষায় কেবল ধর্মীয় শিক্ষার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, শিক্ষার মান ও মানবিক বিকাশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে নীতিনির্ধারকদের এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator