মাগুরার শ্রীপুরে দুর্গাপূজার মেলায় বিষাক্ত মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

মাগুরার শ্রীপুরে দুর্গাপূজার মেলায় বিষাক্ত মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মাগুরার শ্রীপুরে দুর্গাপূজার মেলায় বিষাক্ত মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু..
মাগুরার শ্রীপুরে দুর্গাপূজার মেলায় বিষাক্ত মদ্যপানে দুই যুবকের মৃত্যু..
ছবি: সংগৃহীত
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় দুর্গাপূজার মেলায় অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে বিধান বিশ্বাস ও আলমগির লস্কার নামে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।..

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর রাতে আয়োজিত মেলায় অংশ নিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে বিধান বিশ্বাস ও আলমগির লস্কার নামে দুই ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত বিধান বিশ্বাস উপজেলার মালদা গ্রামের বিনয় বিশ্বাসের ছেলে এবং আলমগির লস্কার বাখেরা মকর্দমখোলা গ্রামের আজম লস্কারের ছেলে। বুধবার রাতে মেলা থেকে ফেরার পর থেকেই তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মেলা প্রাঙ্গণে বন্ধুদের সাথে মদ্যপানের পর থেকেই তারা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তারা।

নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অভিযোগ, মেলার পরিবেশ এবং সেখানে অবাধে মাদকদ্রব্য সেবনের সুযোগ থাকায় এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ভাষ্যমতে, মেলার রাতে তারা বাড়িতে ফিরে আসার পর থেকেই প্রচণ্ড অসুস্থতা অনুভব করছিলেন, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই রাখা হয়েছিল, যা কাল হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা ও শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মদ্যপানের উৎস এবং কী ধরনের পানীয় তারা গ্রহণ করেছিলেন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের রহস্য দানা বাঁধছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তার অভাবকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে যাতে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায়। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওলি মিয়া জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে এই ধরনের মাদকদ্রব্য কীভাবে মেলার মতো জনসমাগমস্থলে সরবরাহ হলো এবং এর পেছনে কোনো চক্র জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এখন ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে এবং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় জনমনে এক গভীর শোক ও ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। উৎসবের আবহে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা এবং এর ভয়াবহ পরিণতির বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন যদি মেলা বা জনবহুল এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। অকাল এই দুই মৃত্যু কেবল দুটি পরিবারকে নিঃস্ব করেনি, বরং গ্রামীণ জনপদে মেলার নামে মাদক কারবারের যে ভয়াবহ বিস্তার ঘটছে, তা নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনাই এখন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।

No se encontraron comentarios


News Card Generator