নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা..
নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ ও শহরকে বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।..

ঢাকা শহরকে একটি স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় নগরীর ক্রমবর্ধমান আবর্জনা সমস্যা ও অপরিচ্ছন্নতার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শহরের পরিচ্ছন্নতা কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হলেও শহরকে জীবাণুমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর রাখতে হবে, কারণ সন্তানরা শুধু বাড়ির আঙিনায় সীমাবদ্ধ থাকে না, পুরো শহরের পরিবেশের ওপরই তাদের সুস্থতা নির্ভর করে। নগর ব্যবস্থাপনায় এই পরিবর্তনের জন্য কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রতিটি কর্মীর ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তি ও কর্মতৎপরতাই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র সমাধান হতে পারে বলে তিনি মতপ্রকাশ করেন।

সিটি করপোরেশনের বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর অবকাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ নগরবাসীর ক্ষোভ দীর্ঘদিনের, যা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও সমন্বয়ের অভাবই ঢাকা শহরের অপরিচ্ছন্নতার মূল কারণ। তিনি কর্মকর্তাদের মনে করিয়ে দেন যে, বিদেশের উন্নত শহরগুলো রাতারাতি পরিচ্ছন্ন হয়নি, বরং দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমেই তারা সেই অবস্থানে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, কর্মকর্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে এবং তারা অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান খোঁজার মানসিকতা দেখান না। তিনি নিজেই ব্যক্তিগতভাবে নগরীর সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা জানান। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তার কঠোর বার্তা ছিল যে, কেবল সরকারের সমালোচনা করলেই হবে না, বরং নিজের কাজের মান নিয়ে আত্ম-সমালোচনা করাও সমান জরুরি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, প্রতিটি কর্মকর্তা তাদের অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন, যা মূলত সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের বাস্তব প্রতিফলন।

সভায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নগরীর বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ও সড়ক বিভাজক উন্নয়নের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা জানানো হলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে প্রতীয়মান হয়। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, নগরীর আবহাওয়া, ভূমিকম্পের ঝুঁকি, বায়ুর মান এবং বন্যার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের যে আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করে বিভিন্ন সূচকের হালনাগাদ তথ্য পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক ইতিবাচক পর্যবেক্ষণের মতো ঢাকার পরিচ্ছন্নতার মান আরও উন্নত হবে, যদি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি স্তরের কর্মী তাদের দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ অনুগত থাকেন এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে প্রতিটি সড়ক ও এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখেন।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই নির্দেশনা রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক কাঠামোতে এক নতুন গতিশীলতা তৈরির ইঙ্গিত দেয়। নগরীর আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান কেবল কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতাই নিশ্চিত করছে না, বরং একটি বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে নিয়ে এসেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম কেবলমাত্র সভায় আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবে দৃশ্যমান হবে। কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে যদি ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়, তবেই তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করবে। সামগ্রিকভাবে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার সংমিশ্রণই পারে ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের এই সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator