রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আমির হামজা.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আমির হামজা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আমির হামজা..
রাজশাহীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ আমির হামজা..
ছবি: সংগৃহীত
****

রাজশাহীতে তাফসির মাহফিল আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা। এ ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আমির হামজা ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার আহ্বান জানান।

মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জানতে চান আমির হামজা

ফেসবুক পোস্টে আমির হামজা লেখেন, ‘প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন—কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো? নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হোক।’

তিনি বলেন, অস্পষ্ট অভিযোগ বা অজুহাতে ধর্মীয় সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনীতি কি কোরআনের বাইরে, প্রশ্ন আমির হামজার

রাজনীতি ও ইসলামী শিক্ষার সম্পর্ক তুলে ধরে আমির হামজা প্রশ্ন করেন, রাষ্ট্র, সমাজ, সুশাসন, দুর্নীতি, জুলুম ও মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা করা কি ইসলামী শিক্ষার বাইরে?

তাঁর মতে, পবিত্র কোরআন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানুষের অধিকার রক্ষার শিক্ষা দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অসংগতি নিয়ে আলোচনা কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে তার জবাব যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বক্তব্যের অভিযোগে তাফসির মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। ধর্মীয় আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় নীতি নিয়ে মতপ্রকাশের মধ্যে পার্থক্য কোথায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন এই সংসদ সদস্য।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

পোস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্মীয় বক্তাদের বক্তব্য ও মাহফিল আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা এবং বিধিনিষেধের অভিযোগও উল্লেখ করেন আমির হামজা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় অধিকার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। তবে রাজশাহীতে মাহফিলের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আমির হামজা আরও বলেন, তাঁর বক্তব্য কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য নয়। বরং ধর্মীয় আলোচনা, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর চাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান আমির হামজা। একই সঙ্গে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের কারণ জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য বা মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আনুষ্ঠানিক কারণ জানা যায়নি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator