ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র..
ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র..
ছবি: সংগৃহীত
****

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের উপস্থিতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অস্ত্র হাতে অভিযানে গিয়ে বিতর্কে ইশরাক

শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।

ইশরাকের নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে অস্ত্র উঁচিয়ে নির্দেশ দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরতে দৌড়াতে দেখা যায়। এ সময় একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট মহলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র প্রদর্শনের দাবি ইশরাকের

সমালোচনার মধ্যে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ঘটনার ব্যাখ্যা দেন ইশরাক হোসেন। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে তিনি জানতে পেরেছিলেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। পরে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে এলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। নিজের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র প্রদর্শনে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

ইশরাক আরও দাবি করেন, অভিযানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে অভিযানের বিষয়ে জানাননি। পরে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

অন্যদিকে, ইশরাক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন।

এদিকে, অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টি

ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবরের আগে বিতর্কের জেরে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। তবে হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন তিনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের নির্দেশের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া বাকি রয়েছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator