তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক মানুষের সেবায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রুহুল কবির রিজভী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক মানুষের সেবায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রুহুল কবির রিজভী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক মানুষের সেবায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রুহুল কবির রিজভী..
তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রান্তিক মানুষের সেবায় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন: রুহুল কবির রিজভী..
ছবি: সংগৃহীত
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা..

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক রহমানের মানবিক নেতৃত্বের বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরেছেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে রিজভী দাবি করেন যে, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাস জীবনে থেকেও তারেক রহমান দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি জানান, করোনাকালীন দুর্যোগ, ভয়াবহ বন্যা, অতিবৃষ্টি কিংবা শীতের তীব্র প্রকোপের মতো জাতীয় সংকটে তারেক রহমান কেবল দূর থেকেই নির্দেশনা দেননি, বরং তার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক দূরদর্শিতা সংগঠনের কর্মকা-কে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করতে সক্ষম হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। মূলত প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তারেক রহমানের এই নিরবচ্ছিন্ন সম্পৃক্ততা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত রেখেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ফাউন্ডেশনের কার্যপরিধি ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে রিজভী উল্লেখ করেন, জিআরএফ শুধুমাত্র ত্রাণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কঠিন সময়ে যখন শিক্ষাঙ্গনে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তখন এই সংগঠনটি অনলাইনে বিজ্ঞান মেলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মসূচি পরিচালনা করে তরুণদের মেধা বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কৃত্রিম পা সংযোজন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং জটিল রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনটি সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। রিজভীর মতে, এই মানবিক কর্মকাণ্ড সরাসরি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন কষ্ট লাঘবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, যা সাধারণ মানুষের মনে বিএনপির প্রতি আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করছে। চিকিৎসা ও প্রকৌশলী পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই ফাউন্ডেশনটি যেভাবে মাঠ পর্যায়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে রিজভী সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের পাশাপাশি সেবামূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জিআরএফ-এর এই সেবামূলক কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে বিএনপি মূলত তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করছে। সরকারি নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে প্রায়ই বিরোধী দলের সেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও, বিএনপিপন্থী পেশাজীবীরা দাবি করছেন যে, তাদের প্রতিটি কাজই সম্পূর্ণ জনকল্যাণমুখী এবং স্বচ্ছতার সাথে পরিচালিত হচ্ছে। তারা মনে করেন, পেশাজীবীদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে সরকারি বা দাতব্য সংস্থার সীমাবদ্ধতা যেখানে কাজ করে না, সেখানে জিআরএফ-এর মতো সংগঠনগুলো বিকল্প সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

পরিশেষে, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের এই দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনসেবামূলক রাজনীতির একটি নতুন ধারা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, বিএনপি আগামী দিনের রাজনীতিতে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্যই নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা ও মানবিক সংকটে পাশে থাকার মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেছে। ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করে যেভাবে এই সংগঠনটি তার কার্যক্রম সচল রেখেছে, তা ভবিষ্যতে দেশের পরিবহন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংকট নিরসনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির এই সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক রাজনীতির চর্চা সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে বলে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator