প্রথম বিয়ের তথ্য ফাঁস: স্ত্রীকে গলা টিপে ও রশিতে বেঁধে কর্ণফুলীতে ফেলে দেওয়া সেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

প্রথম বিয়ের তথ্য ফাঁস: স্ত্রীকে গলা টিপে ও রশিতে বেঁধে কর্ণফুলীতে ফেলে দেওয়া সেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
প্রথম বিয়ের তথ্য ফাঁস: স্ত্রীকে গলা টিপে ও রশিতে বেঁধে কর্ণফুলীতে ফেলে দেওয়া সেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২..
প্রথম বিয়ের তথ্য ফাঁস: স্ত্রীকে গলা টিপে ও রশিতে বেঁধে কর্ণফুলীতে ফেলে দেওয়া সেই খুনের রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) নামের এক নারী হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য প্রায় আড়াই মাস পর উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্..

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও পরিকল্পনা

পিবিআই জানায়, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়া ওরফে রাজুকে বিয়ে করেন জান্নাতুল ফেরদৌস। বিয়ের সময় রাজু নিজেকে অবিবাহিত বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন যে রাজুর আগের স্ত্রী ও সংসার রয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তীব্র মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহ শুরু হয়।

দ্বন্দ্বের জের ধরে স্ত্রীকে স্থায়ীভাবে দমনে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজু। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি তাঁর পরিচিত মো. মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং কালুরঘাট সেতুর এক কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক ও তন্ত্রমন্ত্রের আশ্রয় নেন। তাতে সমাধান না পেয়ে জান্নাতুলকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত ছক কষা হয়।

হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ

গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বেকাদায় ফেলে বেড়ানোর নাম করে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অন্য পাড়ে ব্রিজঘাটে নিয়ে যান রাজু। সেখানে আগে থেকেই রাজুর সহযোগী মুসলিম উদ্দিন, রাজুর প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরেক ব্যক্তি একটি সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। জান্নাতুলকে নৌকায় তুলে তা কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালের দিকে নেওয়া হয়।

নৌকা চলাকালীন রাত আটটার পর রাজুর সঙ্গে জান্নাতুলের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে রাজু তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তাঁর মুখ চেপে ধরেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীরা নৌকা থেকে রশি ও বস্তা বের করে জান্নাতুলের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে কর্ণফুলী থানাধীন কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনের অংশে শিকলবাহা খালে লাশ ফেলে দেওয়া হয়। পরে আসামিরা নৌকা নিয়ে পালিয়ে যান ও আত্মগোপনে চলে যান।

লাশ উদ্ধার ও পিবিআইয়ের তদন্ত

ঘটনার কদিন পর গত ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন নদী থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ। পরে নিহতের পরিবার লাশটি জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের মা ছায়া খাতুন বাদী হয়ে রাজুকে প্রধান আসামি করে কর্ণফুলী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের ওপর ন্যস্ত হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের একটি টিম অভিযান চালিয়ে গত ১৩ অক্টোবর কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে প্রধান সহযোগী মো. মুসলিম উদ্দিনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজুর প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটি জব্দ করা হয়।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার মুসলিম উদ্দিন গত ১৪ অক্টোবর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও মূল অভিযুক্ত রাজুকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

No comments found


News Card Generator