চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে একসময় আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুমনের বর্তমান চলাফেরা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ উঠেছে, খোলস পাল্টে আবারও সক্রিয় হয়েছেন সুমন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ১ ও ২ আগস্ট ওয়াসীম উদ্দিন চৌধুরী ও কাট্টলির নোবেলের নেতৃত্বে চট্টগ্রামের সিআরবি ও ষোলশহর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় সুমনের সম্পৃক্ততা ছিল। এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুলশীর হাবিব লাইন এলাকার আলম গেস্ট হাউসে ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন সুমন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে যাতায়াতকারী আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তিনি তাঁদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।
এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে সখ্যকে কাজে লাগিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের আটক করানোর পর অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হতো।
আরও অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গিয়াস ওরফে ‘ডিস গিয়াসের’ কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াকিল হোসেন বগাকে এএসআই রাজীবের মাধ্যমে আটক করানোর ঘটনায় সুমনের ভূমিকা ছিল।
তৃণমূলের প্রশ্ন, তদন্তের দাবি
অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সুমন কীভাবে বর্তমানে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা বলে অভিযোগকারী সূত্রে জানা গেছে।