ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কার্যক্রম জোরদার: সচিবালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কার্যক্রম জোরদার: সচিবালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কার্যক্রম জোরদার: সচিবালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর..
ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ ল্যাব কার্যক্রম জোরদার: সচিবালয়ে সরেজমিন পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর..
ছবি: সংগৃহীত
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যানের কার্যকারিতা ও ভেজালবিরোধী অভিযানের সক্ষমতা যাচাইয়ে সচিবালয়ে বিশেষ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।..

বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিরাপদ খাদ্য পরীক্ষার জন্য স্থাপিত ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরি ভ্যান পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিচে রাখা এই অত্যাধুনিক ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জটিল প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। দেশের ৬৪টি জেলায় ভেজালবিরোধী কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিজ্ঞানসম্মত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে আটটি মহানগরীতে সীমিত আকারে কার্যক্রম চললেও, এই ল্যাবগুলো মাঠপর্যায়ে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন মূলত সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের মনিটরিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা যাচাইয়ের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে ল্যাবের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন, যেখানে মূলত খাদ্যে ভেজালের উপস্থিতি দ্রুত শনাক্তকরণ ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের কৌশলগুলো প্রাধান্য পায়।

বর্তমানে দেশের আটটি মহানগর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে যে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার পরিধি ৬৪টি জেলায় বিস্তৃত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই ল্যাবগুলো এখন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু ভ্রাম্যমাণ ল্যাব বাড়ালেই হবে না, বরং ল্যাবের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হার বাড়াতে হবে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত করা গেলেও আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তবে বর্তমান এই ভ্রাম্যমাণ ল্যাবরেটরিগুলোতে দ্রুত পরীক্ষা ও তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা থাকায় ভেজাল কারবারিদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। ল্যাবগুলোয় থাকা বিশেষ মনিটরে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কিত সচেতনতামূলক ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করা হচ্ছে, যা জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় মোট ৭২টি ভ্রাম্যমাণ ল্যাব ভ্যান সংগ্রহের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশে খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনের সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ল্যাবরেটরিগুলোর আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র ল্যাব সংখ্যা বাড়ালেই হবে না, বরং এই ল্যাবে কর্মরত জনবলের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবগুলোকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী কাঠামোয় রূপান্তর করা হবে, যাতে কোনোভাবেই অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রশ্রয় না পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সরেজমিন পরিদর্শন প্রমাণ করে যে, সরকার জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় খাদ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের পরিবহন ও বিপণন ব্যবস্থায় জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস করবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ভ্রাম্যমাণ ল্যাবগুলোর কার্যক্রম যেন কেবল বিশেষ দিবসে বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং দেশের প্রতিটি প্রান্তরে এই পরীক্ষাগারগুলোর নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি এবং ভেজালবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেই কেবল একটি নিরাপদ খাদ্য শৃঙ্খল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহার দেশের খাদ্য নিরাপত্তা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে গণ্য হবে, যদি এর সুফল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ নিয়মিত ভোগ করতে পারে।

No se encontraron comentarios


News Card Generator