টঙ্গীর চেরাগআলীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টঙ্গীর চেরাগআলীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
টঙ্গীর চেরাগআলীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট..
টঙ্গীর চেরাগআলীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১ ইউনিট..
ছবি: সংগৃহীত
টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় একটি ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট কাজ করছে।..

বুধবার ১৪ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় অবস্থিত একটি ওষুধ কারখানায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ১১টার দিকে কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসতে দেখে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা ও কারখানার রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস আরও ৩টি ইউনিট যুক্ত করে, বর্তমানে মোট ১১টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে আগুন নেভানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আগুনের সূত্রপাত এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা না গেলেও, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই কারখানাটি ঘিরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগুনের উৎসস্থল এবং এর বিস্তৃতি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কারখানাটির আশেপাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়, তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই ওষুধ কারখানাটিতে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার পর্যাপ্ত নজরদারি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কারখানাটিতে প্রচুর পরিমাণে দাহ্য রাসায়নিক মজুদ থাকে, যার ফলে আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কারখানার নিরাপত্তা প্রটোকল এবং জরুরি নির্গমন পথ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থাকলেও মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কারখানার ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি এবং কাঁচামাল আগুনের গ্রাসে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা ওষুধ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কারখানাটির ভেতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা সতর্কতার সাথে কাজ পরিচালনা করছে। ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল এবং রাসায়নিক দ্রব্য আগুনের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে, কারখানার মালিকপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে যাতে উৎসুক জনতা ভিড় করে উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। কারখানার অগ্নি-নিরাপত্তা লাইসেন্স এবং নিয়মিত ফায়ার ড্রিল পরিচালনার নথিপত্র এখন তদন্তের আওতায় আসবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

টঙ্গীর এই অগ্নিকাণ্ড শিল্পাঞ্চলগুলোতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত কারখানাগুলোতে নিয়মিত তদারকি ও অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যদি কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। আগুনের ভয়াবহতা হ্রাস পেলেও কারখানাটির কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং আশপাশের বসতির ঝুঁকি এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

לא נמצאו הערות


News Card Generator