মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ
রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট নানা দুর্যোগও আমাদের বড় হুমকি, যা নিয়ে আমরা খুবই কম চিন্তা করি। ঢাকা শহরের দিকে তাকালে আজ যে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি জাগে, তা হলো একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থার কারণেই দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক গুণ বেড়ে যায়।”
তিনি কাঠমান্ডু ও তেহরানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, নদী প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, জলাশয় ও নদীকে দূষণমুক্ত রাখা এবং বাসাবাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নগর পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে।
দুর্যোগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের মানুষের দুর্যোগ লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকি এ দেশের মানুষের চিরন্তন জীবনসঙ্গী। এ সময় তিনি ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি এবং মহান নেতা মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ভূয়সী আকুতির কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭০-এর দুর্যোগ প্রমাণ করেছিল অসচেতনতা ও প্রস্তুতির অভাবে একটি রাষ্ট্রকেও কী বিশাল মূল্য দিতে হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম।