মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুস সালাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুই ধারায় এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও অর্থদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন—রাজউকের সাবেক সদস্য এস ডি ফয়েজ, ওয়াহেদুল ইসলাম, জাফর উল্লাহ, জহুরুল হক, রেজাউল করিম তরফদার এবং বিতর্কিত উপায়ে প্লট নেওয়া দুই গ্রহীতা শওকত আজীজ ও আশফাক আজীজ।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা পরোয়ানা জারি করেন বিচারক।
মামলার বিবরণ ও অনিয়মের চিত্র
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজউকের তৎকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিজেদের অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পরের যোগসাজশে প্রকৃত ও বৈধ আবেদনকারীদের বঞ্চিত করেন। একই সঙ্গে তারা প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেন।
তদন্তে উঠে আসে, দুই গ্রহীতা জামানতের টাকা আগেই প্রত্যাহার করে নেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাদের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যমূলক ইচ্ছায় রাজউকের ঊর্ধ্বতন মহল অন্যায়ভাবে বাতিলকৃত আবেদনকারীদের মোট ১০ কাঠার দুটি মূল্যবান প্লট বরাদ্দ পাইয়ে দেয়। বিজ্ঞ আদালত সমস্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা ও দীর্ঘ শুনানি শেষে এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।