হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) ভোর পর্যন্ত বাতিল হওয়া মোট ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত হিসাব
-
সরাসরি বাতিলকৃত ২২টি ফ্লাইট: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি।
-
ট্রানজিট বাতিলকৃত ৩৯টি ফ্লাইট: ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে যেসব যাত্রীর রিয়াদে যাওয়ার কথা ছিল, মূল গন্তব্য বন্ধ থাকায় বিমান সংস্থাগুলো ঢাকা থেকে তাদের বহন করেনি। এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ৫১টি ফ্লাইট স্থগিতের খবর দিলেও সর্বশেষ তথ্যে স্থগিত ফ্লাইট ও ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর সংখ্যা আরও বেড়েছে।
বিমান সংস্থাগুলোর জরুরি সিদ্ধান্ত
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচারে ইতোমধ্যেই ফ্লাইট পরিচালনায় সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো:
-
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে।
-
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স: আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সকল ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।
হামলা ও পটভূমি
গত রবিবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে অন্তত পাঁচবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হুতিদের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান চালানো হলে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। প্রায় দুই মাস ধরে চলা সৌদি জোট ও হুতিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।