সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজার দখলের বিশ্বব্যাপী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে মেটার এক মুখপাত্র এ নিষেধাজ্ঞার কথা নিশ্চিত করেছেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় যে দেশগুলো
মেটার জারি করা নতুন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। এই সাতটি দেশে সরাসরি বাইটড্যান্স কিংবা তৃতীয় কোনো বিজ্ঞাপনদাতার মাধ্যমেও টিকটকের লিংকযুক্ত বা অ্যাপ ডাউনলোডে উদ্বুদ্ধকারী কোনো প্রচারণা মেটার প্ল্যাটফর্মে পোস্ট বা রান করা যাবে না।
মেটার যুক্তি ও অবস্থান
প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপের প্রচার বন্ধের বিষয়ে মেটা নিজেদের ব্যবসায়িক অবস্থানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানিয়েছে, মূল প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীদের অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্মে রিডাইরেক্ট করে নিয়ে যায়—এমন বিজ্ঞাপন প্রচার করা ব্যবসায়িক দিক থেকে প্রয়োজন মনে করছে না মেটা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি শিল্পে এ ধরণের নীতি প্রয়োগ একটি স্বাভাবিক ও সাধারণ ব্যবসায়িক চর্চা। পণ্যের মান, মৌলিক সুবিধা এবং ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টির ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে টেক্কা দেবে মেটা।
নিরাপত্তা ও আইনি চাপ
সাম্প্রতিক সময়ে টিকটক ও মেটা—উভয় প্রতিষ্ঠানই আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আইনি ও রাজনৈতিক চাপে রয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোতে করা মামলায় শিশুদের সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে মেটা প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। অন্যদিকে, টিকটকও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বয়সের বাধ্যবাধকতা কঠোর করতে একাধিক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে।