স'ন্ত্রা' স'বিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফ'তা'র.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

স'ন্ত্রা' স'বিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফ'তা'র..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
স'ন্ত্রা' স'বিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফ'তা'র..
স'ন্ত্রা' স'বিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফ'তা'র..
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।..

রাজধানীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত রোববার দিবাগত রাতে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পেরেছে যে, গ্রেফতারকৃতরা দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর সাথে গোপন আঁতাত ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে এই দুই উচ্চপদস্থ সাবেক সেনা কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মূলত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং জনমনে ভীতি সঞ্চারকারী চক্রকে নির্মূল করার লক্ষ্যে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো এবং রাষ্ট্রবিরোধী প্রোপাগান্ডা তৈরির মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। বিশেষ করে কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে প্রত্যক্ষ যোগসাজশের তথ্য পাওয়ার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। অন্যদিকে, দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি উক্ত ষড়যন্ত্রের সাথে সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ব্লু-প্রিন্ট বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছিলেন। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মতো দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পরই ডিবি পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। যদিও কাজী গুলশান আরাকে ঠিক কোন নির্দিষ্ট মামলায় চূড়ান্তভাবে চার্জশিটভুক্ত করা হবে তা নিয়ে এখনো আইনি পর্যালোচনা চলছে, তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অনড় অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে কাজ করছে যাতে ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অতীত পরিচয় বা পদমর্যাদা নির্বিশেষে দেশের সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের পরিচয় উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই গ্রেফতারের ঘটনা দেশের নিরাপত্তা বলয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সাবেক কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা এবং সাইবার জগতের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি কেবল আইনের শাসনকেই সুসংহত করবে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator