চুয়েটে শাটডাউন, ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকলেন নতুন ভিসি!.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চুয়েটে শাটডাউন, ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকলেন নতুন ভিসি!..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
চুয়েটে শাটডাউন, ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকলেন নতুন ভিসি!..
চুয়েটে শাটডাউন, ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে দপ্তরে ঢুকলেন নতুন ভিসি!..
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মুখে তালা ভেঙে ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।..

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই আজ সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টানা আন্দোলনের মুখে তিনি এতদিন ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। সোমবার সকালে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর তিনি নিজেকে কেবল ‘শিক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফটক পার হন। এরপর চুয়েট শাখা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সাথে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে ঝোলানো তালা ভেঙে তিনি সশরীরে নিজ দপ্তরে গিয়ে বসেন। এই ঘটনাটি ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ বিগত ২০ দিন ধরে চলমান এই শাটডাউনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের সময় তার সাথে ছিলেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন। তালা ভাঙার বিষয়টি স্বীকার করে ছাত্রদল নেতারা জানিয়েছেন যে, তারা উপাচার্যের সাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, বর্তমান উপাচার্যের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত এবং তারা পূর্বের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অনড়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি এক ধরণের অবজ্ঞা প্রদর্শন। তালাবদ্ধ ভবনে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে প্রবেশ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও তার এই পদক্ষেপকে সংকট সমাধানের একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যেখানে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দীর্ঘ ২০ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন, সেখানে রাজনৈতিক দলের নেতাদের সহায়তায় দপ্তরে বসা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাম্পাসের সংকট নিরসনে শিক্ষক সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাথে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দপ্তরে বসার বিষয়টি প্রশাসনিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই আচরণে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।

উপাচার্যের এই বিতর্কিত প্রবেশ চুয়েটের সামগ্রিক একাডেমিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ ২০ দিন ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সেশন জটের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণের এই নজির ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলতে পারে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে করে অতি দ্রুত ক্যাম্পাসে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে এবং দীর্ঘস্থায়ী এই অচলাবস্থা থেকে চুয়েট পরিত্রাণ পায়।

コメントがありません


News Card Generator