নিঝুম রাতের নিরবতায় খোদার প্রেম: মানবজীবন বদলে দেওয়ার মহৌষধ ‘তাহাজ্জুদ’.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নিঝুম রাতের নিরবতায় খোদার প্রেম: মানবজীবন বদলে দেওয়ার মহৌষধ ‘তাহাজ্জুদ’..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নিঝুম রাতের নিরবতায় খোদার প্রেম: মানবজীবন বদলে দেওয়ার মহৌষধ ‘তাহাজ্জুদ’..
নিঝুম রাতের নিরবতায় খোদার প্রেম: মানবজীবন বদলে দেওয়ার মহৌষধ ‘তাহাজ্জুদ’..
ছবি: সংগৃহীত
যখন নিঝুম রাতে চারপাশ নিস্তব্ধতায় ডুবে যায়, পুরো পৃথিবী যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই আল্লাহর প্রিয় বান্দারা বিছানার মায়া ত্যাগ করে সিজদায় অবনত হন। অন্ধকার রাতের সেই নিভৃত কোণে সৃষ্টিকর্তা আর সৃষ্টি..

হাদিসের আলোয় তাহাজ্জুদের গুরুত্ব

ফরজ নামাজের পর মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ও সুমহান সালাত হলো রাতের এই তাহাজ্জুদ। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের (তাহাজ্জুদের) নামাজ।” (সহিহ মুসলিম)।

আল্লাহ তাআলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়ে বান্দাদের উদ্দেশ্যে ডাক দিয়ে বলতে থাকেন—“কে আছ আমার কাছে প্রার্থনা করবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছ আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দান করব? আর কে আছ আমার কাছে নিজের পাপের জন্য ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।

মনের বিষণ্নতা ও জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার আমল

আজকের এই আধুনিক ও যান্ত্রিক যুগে মানসিক বিষণ্নতা, হতাশা ও পারিবারিক অস্থিরতা মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী। মনোবিজ্ঞান ও আত্মিক চিকিৎসার বিচারেও রাতের নীরবতায় আল্লাহর দরবারে কান্না করা মানবমনে এক অপার্থিব প্রশান্তি এনে দেয়। তাহাজ্জুদ কেবল সুনির্দিষ্ট কিছু দরখাস্ত পূরণের মাধ্যম নয়, এটি ঈমানকে মজবুত করার এবং অন্তরের অন্ধকার দূর করে আত্মাকে সজীব করার শ্রেষ্ঠ উপায়।

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মুজ্জাম্মিলে মহান আল্লাহ বলেন, “অবশ্যই রাতে ঘুম থেকে উঠা মনকে দমিত করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং সে সময় কুরআন পাঠ অত্যন্ত স্পষ্ট ও প্রভাবশালী।”

তাহাজ্জুদ আদায়ের সেরা সময় ও নিয়ম

  • সময়: ইশার নামাজের পর থেকে শুরু করে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়। তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (সাধারণত রাত ২টার পর থেকে ফজরের আজানের পূর্ব পর্যন্ত) তাহাজ্জুদ আদায়ের সবচেয়ে উত্তম সময়।

  • রাকাত সংখ্যা: তাহাজ্জুদ নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়তে হয়। সর্বনিম্ন ২ রাকাত থেকে শুরু করে ৪, ৮, ১২ বা তার বেশি রাকাত আদায় করা যায়।

  • পদ্ধতি: ধীরস্থিরভাবে, লম্বা রুকু ও সিজদা করে এবং আবেগঘন হৃদয়ে কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নামাজ শেষ করা উত্তম।

জীবনের কঠিনতম সময়ে অবাধ্য মনকে শান্ত করার চাবিকাঠি

পার্থিব জীবনের জটিল সমীকরণে যখন সব দরজা বন্ধ মনে হয়, তখন তাহাজ্জুদের জায়নামাজই হয়ে ওঠে বান্দার সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহর কাছে চাওয়া কোনো আকুতিই বৃথা যায় না। তাই জীবনকে সুশৃঙ্খল করতে, পাপ মোচন করতে এবং অন্তরে জান্নাতি প্রশান্তি লাভ করতে প্রতিদিন অন্তত দুই রাকাত হলেও তাহাজ্জুদ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের প্রত্যেকের জন্য কল্যাণকর।

کوئی تبصرہ نہیں ملا


News Card Generator