বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিংয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি: স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তের দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিংয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি: স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তের দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিংয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি: স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তের দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিংয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি: স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তের দাবি সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের..
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় আসন ব্লক করে রাখা ও টিকিট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন।..

বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ব্যবস্থায় টিকিট সংরক্ষণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে ভয়াবহ অনিয়ম ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, যা সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ অনুযায়ী, সহজ ডটকমের মাধ্যমে পরিচালিত বর্তমান রেলওয়ে টিকেটিং সিস্টেমে যাত্রীদের জন্য টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার আগেই এক থেকে পাঁচ দিন আগে আসন ব্লক করে রাখার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটছে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার তথ্য উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত, টিকিট বিক্রির ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ যাত্রীদের হাতের নাগালে থাকার পরিবর্তে একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে সরকারি এই সেবার ওপর থেকে মানুষের আস্থা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। ঘটনাটির মূল কারণ ও এর সাথে জড়িত অসাধু চক্রকে শনাক্ত করতে এখন একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করেও প্রতিবারই তারা ব্যর্থ হচ্ছেন, অথচ একই টিকিট মুহূর্তের মধ্যে কালোবাজারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। টিকিট না পাওয়ার এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চক্রটি যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি মূল্য আদায় করছে, যা সরাসরি ভোক্তা অধিকারের লঙ্ঘন। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের দাবি অনুযায়ী, টিকিটের এই ডিজিটাল জালিয়াতি কেবল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত দুর্নীতি। যাত্রীরা অভিযোগ করছেন যে, সিস্টেমের ভেতরে থাকা কিছু অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের টিকিট কেড়ে নিচ্ছে। এর ফলে সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও আসন নিশ্চিত করতে পারছেন না এবং বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এই ভোগান্তি কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে রেলওয়ের সেবার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকারের কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।

এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সহজ ডটকমের ভূমিকা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন দাবি জানিয়েছে যে, সহজ ডটকমের সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং রেলওয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। তাদের মতে, টিকিট বিক্রির প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহি বাড়াতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যদিও এ ধরনের অভিযোগের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই কারিগরি ত্রুটির অজুহাত দেয়, কিন্তু অডিট অধিদপ্তরের প্রতিবেদন সেই অজুহাতকে নাকচ করে দিচ্ছে। তাই কেবল অভ্যন্তরীণ তদন্ত নয়, বরং রেলওয়ের টিকিট ব্যবস্থাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করতে এবং কালোবাজারি প্রতিরোধে একটি স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে করে সরকারি সম্পদ ও সেবা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত মুনাফার হাতিয়ারে পরিণত না হয়।

পরিশেষে, রেলওয়ের এই টিকিট জালিয়াতির ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং এটি দেশের গণপরিবহন খাতের একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদি অবিলম্বে এই ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধ করা না যায়, তবে রেলওয়ের ওপর সাধারণ মানুষের নির্ভরশীলতা আরও হ্রাস পাবে এবং যাত্রীসেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে। সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি সেবার মান বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে রেলওয়ে টিকেটিংয়ে কোনো অসাধু চক্র আর হস্তক্ষেপ করার সাহস না পায়। রেলওয়ের আধুনিকায়নের নামে যে ডিজিটাল জালিয়াতি চলছে, তার অবসান না ঘটলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নও বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

نظری یافت نشد


News Card Generator