নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে শিক্ষাজীবনে অসাধারণ সাফল্যের স্বাক্ষর রাখায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আবরার হামীম আপনকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক।
রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি অডিটোরিয়ামে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও কমল-কুঁড়ির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মারক আলোচনা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
জানা যায়, ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন আবরার হামীম আপন। পারিবারিকভাবে বাবা বিএনপি নেতা হওয়া এবং নিজে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শিক্ষাজীবনে তাঁকে বহু বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তিনি স্নাতক পর্যায়ে ৩.৬১ সিজিপিএ (CGPA) অর্জন করেন।
শিক্ষা ও মেধার চর্চায় আপন একের পর এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএস-এ (IELTS) ৮.৫ ব্যান্ড স্কোর অর্জন করে তিনি দেশসেরা স্থান দখল করেন। এর আগে ও-লেভেল (O Level) ও এ-লেভেল (A Level) পরীক্ষার চমৎকার ফলাফলের জন্য প্রখ্যাত জাতীয় দৈনিক ডেইলি স্টার ও ডেইলি সান অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্কলারশিপ নিয়ে পূর্বে এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে অংশ নেওয়া আপন রাজনীতি বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপসহ ভর্তির প্রস্তাব পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে এমফিল (MPhil) গবেষণা পরিচালনা করছেন।
নিজের অর্জিত জ্ঞানকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে আইইএলটিএস (IELTS) কোর্স পরিচালনা করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা আবরার হামীম আপনের শিক্ষাগত ও মেধাভিত্তিক অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
প্রধান অতিথি ও প্রবীণ রাজনীতিকরা বলেন, মেধা ও রাজনীতির এমন ইতিবাচক সমন্বয় ছাত্রসমাজ তথা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পড়াশোনায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা যায়, আপন তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্রচিন্তা এবং জাতীয়তাবাদের বিকাশের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল।
‘কমল-কুঁড়ি’-র আহ্বায়ক মো: আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীন, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল (নায়ক উজ্জ্বল), প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো: রাশেদ খান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিন্তক রেজাউল করিম রনি এবং জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক জহির দীপ্তি।