বায়ুমান সূচকে অবনতি: অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে ঢাকা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বায়ুমান সূচকে অবনতি: অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে ঢাকা

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বায়ুমান সূচকে অবনতি: অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে ঢাকা
বায়ুমান সূচকে অবনতি: অস্বাস্থ্যকর বাতাসের কবলে ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ১৬৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করছে রাজধানী ঢাকা।..

শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাতাস বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। ১৬৯ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে উঠে এসেছে। বায়ুমান সূচকের এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে যে, মহানগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হচ্ছে এবং নগরবাসীর জনস্বাস্থ্য বড় ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন। সাধারণত ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেখানে ঢাকার বর্তমান অবস্থান নির্দেশ করে যে বাতাস শ্বাস নেওয়ার জন্য নিরাপদ নয় এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির কারণ হতে পারে।

বায়ু দূষণের এই প্রকটতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরা। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ১৬৯ স্কোর সাধারণ মানুষের ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট। নিয়মিত ধুলিকণা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজের ফলে বাতাসের এই মান দ্রুত অবনতি ঘটছে। ভুক্তভোগী নগরবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার বায়ুমান সহনীয় পর্যায়ে রাখার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। রাস্তাঘাটে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা নিয়মিত শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালাপোড়া এবং অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভুগছেন, যা তাদের কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বায়ুমান সূচকের এই অবনতির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। যদিও আইকিউএয়ারের সূচকে সিঙ্গাপুর ২০০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে এবং কুয়ালালামপুর, হ্যানয় ও কলকাতা তালিকার প্রথম সারিতে রয়েছে, তবুও ঢাকার এই অবস্থান শহরের সামগ্রিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোতে ধুলোবালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো বা ঢেকে কাজ করার নিয়ম থাকলেও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এছাড়া পুরনো যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি ও আইনি শাস্তির অভাবকেই বায়ু দূষণের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

ঢাকার বাতাসের এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থা কেবল বর্তমানের সংকট নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। বায়ু দূষণ রোধে যদি এখনই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে নগরীর একটি বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং নির্মাণ কাজে কঠোর নিয়মাবলি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং দূষণকারী উৎসগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সময়ের দাবি, অন্যথায় জনস্বাস্থ্যের এই অবনতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

نظری یافت نشد


News Card Generator