ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা: ফুলবাড়িয়ায় তোলপাড়.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা: ফুলবাড়িয়ায় তোলপাড়..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা: ফুলবাড়িয়ায় তোলপাড়..
ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে বিধবার টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা: ফুলবাড়িয়ায় তোলপাড়..
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে কৌশলে টিপসই নিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।..

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে এক বিধবা নারীকে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার ব্যক্তিগত নথিপত্র ও টিপসই ব্যবহার করে ভুয়া কাবিননামা তৈরির ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী মোছাম্মৎ আছিয়া বেগম গত এক যুগ ধরে বিধবা জীবন অতিবাহিত করছেন এবং পাঁচ সন্তানের জননী হিসেবে সমাজে সম্মান নিয়ে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী আব্দুল কদ্দুছ বেশ কিছু সময় ধরে আছিয়া বেগমকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর স্থানীয় আব্দুছ ছাত্তারের সহায়তায় এই প্রতারণার ফাঁদ পাতেন। প্রায় দেড় মাস আগে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নাম করে কৌশলে আছিয়া বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি সাদা কাগজে তার টিপসই নেওয়া হয়। এই টিপসইকে পুঁজি করে পরবর্তীতে একটি এফিডেভিট ও ভুয়া কাবিননামা তৈরি করা হয়, যেখানে পৌর এলাকার একটি কাজী অফিসের সীল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ও ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আছিয়া বেগমের দাবি অনুযায়ী, তিনি কখনোই আব্দুল কদ্দুছকে বিয়ে করেননি এবং এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে তার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি স্থানীয় মসজিদ কমিটির কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন, কারণ এই জালিয়াতির ফলে তিনি সামাজিকভাবে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী নারী কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে জানান, তার পাঁচ সন্তান ও নাতি-নাতনি রয়েছে, কিন্তু প্রতারক চক্রের এই ঘৃণ্য প্রচারণার কারণে আজ তিনি এলাকায় মুখ দেখাতে পারছেন না। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে, তারা নিজেরাও এই জালিয়াতির বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত সালিশি বৈঠকে মূল অভিযুক্ত আব্দুছ ছাত্তার উপস্থিত না হওয়ায় এই প্রতারণার গভীরতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে আব্দুল হেকিম মাস্টারসহ আরও কয়েকজনের যোগসাজশের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এড়িয়ে চলছেন, যা তাদের অপরাধের দায়বদ্ধতাকে নির্দেশ করে।

এদিকে, জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত সীল ও স্বাক্ষরের বিষয়ে পৌরসভার ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. গোলাম মোস্তফা দায় অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, তার পরিচয় ব্যবহার করে এই জালিয়াতি করা হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি, তবে অভিযোগ দাখিল করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে আইনগতভাবে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় পর্যায়ে এই প্রতারণা শুধু একজন নারীর সম্মানহানিই করেনি, বরং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারি সহায়তার সুযোগকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার একটি নজির তৈরি করেছে, যা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করে।

এই ধরণের জালিয়াতি গ্রামীণ জনপদে অসহায় নারীদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভুক্তভোগী আছিয়া বেগমের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। যদি এই ধরনের প্রতারক চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে ভবিষ্যতে দরিদ্র নারীরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে আরও বড় ধরনের সামাজিক ও আইনি ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন। জনমনে এখন একটাই দাবি, ভুয়া কাবিননামা তৈরির এই চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক যাতে আর কোনো নারী এমন ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির শিকার না হন।

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator