ঢাবি অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার: নতুন মামলায় জামিন নামঞ্জুর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ঢাবি অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার: নতুন মামলায় জামিন নামঞ্জুর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ঢাবি অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার: নতুন মামলায় জামিন নামঞ্জুর..
ঢাবি অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার: নতুন মামলায় জামিন নামঞ্জুর..
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।..

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। গত বুধবার আদালতের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং একইসঙ্গে আসামির জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের রাজাকার আখ্যায়িত করা এবং তাদের ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর থেকেই অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর আগে থেকেই অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকা এই শিক্ষককে নতুন এই মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর মাধ্যমে তার আইনি জটিলতা আরও ঘনীভূত হলো। তদন্তকারী সংস্থা পল্টন থানার এসআই মো. নুরুজ্জামান গত ২ অক্টোবর আদালতে এই আবেদনটি করেছিলেন, যার ভিত্তিতে বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি অনুযায়ী, বিগত সরকারের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনায় অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী।

তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা নথিপত্র অনুযায়ী, গত ১৮ মে রাজধানীর গুলিস্তান ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নাশকতার পরিকল্পনা এবং সরকারের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, ওইদিন বায়তুল মোকাররম এলাকায় সংঘবদ্ধ হওয়ার সময় পুলিশের অভিযানে বেশ কয়েকজন আটক হলেও অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরবর্তীতে তদন্তে উঠে আসে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় এই শিক্ষক প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন এবং তাদের ওপর বলপ্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার আদালতের শুনানিতে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার মতে, একজন স্বনামধন্য শিক্ষককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে, যা তার দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। তবে আদালত উভয়পক্ষের আইনি যুক্তি পর্যালোচনা করে বর্তমানে চলমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ বহাল রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন যে, অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো কেবল সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নিষিদ্ধ সংগঠনের আদর্শিক সমর্থনের সাথে সম্পর্কিত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের অর্থদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছেন এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন মিছিল ও নাশকতামূলক ষড়যন্ত্রে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে পল্টন থানায় দায়ের করা এই নতুন মামলাটি তার কারাবাসকে আরও দীর্ঘায়িত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১১ মার্চ গুলিস্তান স্টেডিয়াম এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো কঠোর ধারায় মামলা হওয়ার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় তার দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধের গভীরতা অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এই অভিযোগ দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এটি পরিবহন ও জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের এই আইনি পরিণতি সাধারণ মানুষের মাঝে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক বলয়ে তাদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুনরায় বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই মামলার প্রভাব কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্যারিয়ারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক পরিবেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনাটি দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক আলোচিত ও স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবেই টিকে থাকবে।

لم يتم العثور على تعليقات


News Card Generator