রাজধানীতে ডিএমপির ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান: ৫২৮ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

রাজধানীতে ডিএমপির ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান: ৫২৮ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
রাজধানীতে ডিএমপির ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান: ৫২৮ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ..
রাজধানীতে ডিএমপির ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান: ৫২৮ জন গ্রেফতার, বিপুল মাদক ও জাল স্ট্যাম্প জব্দ..
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনকে গ্রেফতারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক, জাল স্ট্যাম্প এবং ভেজাল প্রসাধনী তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।..

রাজধানীর অপরাধ দমনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা মহানগরীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রমনা, লালবাগ, ওয়ারী, মতিঝিল, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগসহ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সিটিটিসি সমন্বিতভাবে অংশ নেয়। মূলত মাদক কারবার, অবৈধ নথিপত্র জালিয়াতি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতেই এই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা রাজধানীর অপরাধ পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ২১৮ পিস ইয়াবা, ২ দশমিক ৬ গ্রাম হেরোইন এবং দুটি ধারালো চাকু। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে একটি বাস, নয়টি মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ জাল স্ট্যাম্প, যার মধ্যে ২ হাজার ৬০০ পিস জাল রেভিনিউ স্ট্যাম্প ও ৩ হাজার ৩৫৬ পিস নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্প অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া নগদ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩২ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর ও ওয়ারী বিভাগে গ্রেফতারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ওই এলাকাগুলোতে অপরাধের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের এই নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও মূল হোতাদের শনাক্ত করা জরুরি।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল মাদক বা চুরি-ডাকাতি নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ ভেজাল ওষুধ ও প্রসাধনী ব্যবসার বিরুদ্ধেও এই অভিযান চালানো হয়েছে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে ৬২৭টি সিরাপ, ৬ হাজার ক্যাপসুল, ৩০টি ফেসওয়াশ, ৩১০টি শ্যাম্পু এবং বিপুল পরিমাণ লেবেলবিহীন খালি বোতল ও মোড়ক রয়েছে। এছাড়া ক্যাপসুল তৈরির মেশিন এবং লেবেল লাগানোর ছাঁচ জব্দ করার ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাজধানীর অভ্যন্তরে সংঘবদ্ধ চক্র ভেজাল পণ্য তৈরি করে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধ নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা বলা হলেও, এসব চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।

রাজধানীর নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ রক্ষায় ডিএমপির এই সাঁড়াশি অভিযানের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। নিয়মিত বিরতিতে এমন অভিযান পরিচালনার ফলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার হওয়ার পাশাপাশি অবৈধ মাদক ও ভেজাল পণ্যের বাজার কিছুটা সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে কেবল গ্রেফতারের মাধ্যমেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধের উৎসস্থল চিহ্নিত করে সেগুলোকে সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে অপরাধের এই চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। ডিএমপি যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator