টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা, আটক ২.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা, আটক ২..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা, আটক ২..
টঙ্গীতে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত পুলিশ কর্মকর্তা, আটক ২..
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছিনতাই বিরোধী অভিযানে গিয়ে চিহ্নিত ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই হানিফ মাহমুদ, ঘটনার পরপরই দুই ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।..

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার খরতৈল এলাকায় গত মঙ্গলবার রাতে ছিনতাই বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী কামরুজ্জামান শাওন খন্দকার ওরফে কাইল্যা শাওন ও তার সহযোগী সাগরের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) হানিফ মাহমুদ। রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ যখন অপরাধীদের হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করে, তখন শাওন পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্ত শাওনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এসআই হানিফের পায়ের একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও নিজের দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা সাহসিকতার সাথে ছিনতাইকারী শাওন ও তার সহযোগীকে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাদের টঙ্গী পশ্চিম থানায় নিয়ে আসা হয় এবং আহতের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খরতৈল এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত এবং কাইল্যা শাওনের নেতৃত্বাধীন চক্রটি নিয়মিত সাধারণ পথচারীদের জিম্মি করে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশি অভিযানের অভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই ছিনতাইকারীরা বারবার জামিনে বেরিয়ে এসে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আহত এসআই হানিফ মাহমুদকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও, তার পায়ের জখম গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পুলিশের ওপর সরাসরি হামলার এই ঘটনাটি টঙ্গী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ঘটনার প্রেক্ষিতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, আহত পুলিশ কর্মকর্তার চিকিৎসার বিষয়টি বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অপরাধীদের দমনে পুলিশি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খরতৈল ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, মাঠপর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার ওপর এই হামলার ঘটনাটি মূলত পরিবহন ও জননিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান অস্থিরতারই একটি প্রতিচ্ছবি। ছিনতাইকারীদের এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং জননিরাপত্তার ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যদি এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে অপরাধের মাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভাঙতে নতুন কৌশল নিয়ে কাজ শুরু করেছে, যা আগামীতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator