এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী-কাণ্ড ও বহিষ্কার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। গত ২১ জুলাই মগবাজারের একটি হোটেলে অল্পবয়েসী এক তরুণীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই তরুণীকে মরিয়ম খাতুন পরিচয় দিয়ে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াতের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
পাশাপাশি তার সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যেই গত ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে রয়েছেন নজরুল।
মুফতি আমির হামজার বিতর্কিত মন্তব্য সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুষ্টিয়ায় এক জুমার খুতবায় আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন ইসলামি বক্তা ও সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ বলে মন্তব্য করায় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তাকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়।
স্বজনপ্রীতি ও অন্যান্য অভিযোগ এর বাইরে নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় নিজের মেয়ের নামে বরাদ্দ দেওয়ায় এবং রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি মো. নুরুল আমীন ও খুলনা-৬ আসনের এমপি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগগুলোর পর দল থেকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং দলীয় সেক্রেটারি জেনারেলের স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, সরকারি অনুদান বা সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবার, আত্মীয়স্বজন বা ব্যক্তিগত সহকারীদের কোনো সুপারিশ বা বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।
জামায়াত নেতৃত্বের বক্তব্য দলের এমন পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা নৈতিকতা ও আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিছু ঘটনা আমাদের আহত করলেও শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত আপসহীন। মানুষের সংগঠনে ভুলত্রুটি হতে পারে, তবে এর বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত পদক্ষেপ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, “দলের কেউ অনৈতিক কাজে জড়িত হলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। একজন নির্বাচিত এমপিকে বহিষ্কার ও স্পিকারের কাছে চিঠি দেওয়ার মতো ‘কুইক অ্যাকশন’ অন্য কোনো দলে আছে বলে আমার জানা নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, “দুর্নীতি ও নৈতিকতার দিক থেকে জামায়াত সম্পর্কে মানুষের উচ্চ ধারণা রয়েছে। অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়াটা প্রশংসনীয়।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “জামায়াতের নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে এসব ঘটনা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা তাদের ইমেজ কিছুটা ক্ষুণ্ন করেছে। তবে তারা দ্রুত অ্যাকশন নেওয়ায় নিজেদের অবস্থানও পরিষ্কার করেছে।”
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, “জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ এই ধরনের ভুল আশা করে না। তবে তাদের তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক পদক্ষেপগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।”