শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি: সুরক্ষিত ভবিষ্যতের অঙ্গীকারে প্রধানমন্ত্রী.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি: সুরক্ষিত ভবিষ্যতের অঙ্গীকারে প্রধানমন্ত্রী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি: সুরক্ষিত ভবিষ্যতের অঙ্গীকারে প্রধানমন্ত্রী..
শিশু অধিকার দিবস ও শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি: সুরক্ষিত ভবিষ্যতের অঙ্গীকারে প্রধানমন্ত্রী..
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।..

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ এবং একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন, যেখানে ১৫০ জন শিশু তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়, যা শিশু অধিকারের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মনোযোগের প্রতিফলন ঘটায়। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’, যা রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে শিশুদের অগ্রাধিকার প্রদানের অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতি মূলত শিশু একাডেমির দীর্ঘ পথচলায় নতুন গতির সঞ্চার এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ তৈরির সংকল্পকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিশুদের অংশগ্রহণ এবং তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার বিষয়টি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের স্মারক উপহার প্রদান এবং ‘শৈশব’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক অঞ্চলের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন, যা নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে শিশুদের কণ্ঠস্বর পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিশু একাডেমির ৫০ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রায় কতটুকু অধিকার অর্জিত হয়েছে এবং আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনার অবকাশ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষায় কেবল উৎসব নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে, যেখানে শিশুশ্রম হ্রাস এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ শিশুদের অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের ভাষ্যমতে, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি গত পাঁচ দশকে দেশের শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধা সম্বলিত অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণে শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন, যা শিশুদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার একটি অনন্য প্রয়াস। এছাড়া অনুষ্ঠান শেষে তিনি শিশু জাদুঘর ভবনে সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন, যা আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি সরকারের সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনিক পর্যায়ে এই ধরনের প্রযুক্তিগত সংযোজন শিশু একাডেমির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে শিশু অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রযন্ত্রের সক্রিয়তার একটি প্রতিফলন। শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গৃহীত উদ্যোগগুলো যদি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের সামগ্রিক শিশু কল্যাণ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। শিশুদের জন্য একটি সুরক্ষিত ও জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্য কেবল সরকারি কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। এই আয়োজন দেশের পরিবহন ও সামাজিক কাঠামোতে শিশুদের চলাচলের নিরাপত্তা এবং তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগকে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator