দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে স্বস্তি: ভরিতে কমল ১৬৯১ টাকা | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে স্বস্তি: ভরিতে কমল ১৬৯১ টাকা

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে স্বস্তি: ভরিতে কমল ১৬৯১ টাকা
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে স্বস্তি: ভরিতে কমল ১৬৯১ টাকা
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে, যার ফলে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।..

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। গত ৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটসহ সব মানের স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের মূল্য হ্রাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এবং স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বাজুস এই নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণের বাজারে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দাম মঙ্গলবারও অপরিবর্তিত রয়েছে এবং সারা দেশে এই নিয়ম মেনেই লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম স্বর্ণালঙ্কারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়া সর্বশেষ মূল্যতালিকায় প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। সেই হিসাবে, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা হ্রাস পেয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামেও যথাক্রমে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা, ১ হাজার ৩৪১ টাকা এবং ১ হাজার ১০৮ টাকা কমানো হয়েছে। স্বর্ণের এই মূল্য হ্রাসের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমূল্যের কারণে যারা গয়না কেনা থেকে বিরত ছিলেন, তাদের জন্য বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজারের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। বাজুসের পক্ষ থেকে সকল জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কোনো বিক্রেতা যাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সেজন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা, যাতে দাম কমার সুফল সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়।

স্বর্ণের দামের এই সমন্বয় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং অলংকার শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। স্বর্ণ কেবল ব্যক্তিগত অলংকার নয়, বরং অনেকের কাছেই এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমার এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ভবিষ্যতে স্বর্ণের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বা মুদ্রাস্ফীতির কারণে স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সাধারণ ক্রেতাদের বাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে এবং বাজুসের অনুমোদিত মূল্য তালিকা যাচাই করে স্বর্ণ কেনা বা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator