৮০০ টাকায় টাঙ্গাইলে বিদেশি আনারকলি চাষে সোহেলের বিপ্লব | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

৮০০ টাকায় টাঙ্গাইলে বিদেশি আনারকলি চাষে সোহেলের বিপ্লব

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
৮০০ টাকায় টাঙ্গাইলে বিদেশি আনারকলি চাষে সোহেলের বিপ্লব
৮০০ টাকায় টাঙ্গাইলে বিদেশি আনারকলি চাষে সোহেলের বিপ্লব
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেলেও মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি করে টাঙ্গাইলের সোহেল আকন্দ বিদেশি ফল ‘আনারকলি’ চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।..

দালালের প্রতারণায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি করে তিনি বিদেশি ফল ‘প্যাশন ফ্রুট’ বা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘আনারকলি’ চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন তার এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আলো দেখাচ্ছে

পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল, মাস কয়েক আগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেড়াতে গিয়ে প্রথম এই মিষ্টি-টক স্বাদের ফলের সঙ্গে পরিচিত হন ফলটি ভালো লাগায় তিনি নিজের এলাকায় এর চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন চকরিয়ার একটি বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি চারা সংগ্রহ করে বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন প্রথমদিকে ফুল ঝরে পড়াসহ নানা সমস্যায় পড়লেও স্থানীয়দের পরামর্শ ও নিয়মিত পরিচর্যায় তিনি সেই সংকট কাটিয়ে ওঠেন

বর্তমানে সোহেলের বাড়ির আঙিনার গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রসালো আনারকলি ফল স্থানীয় বাজারে এই ফলের চাহিদা বেশ ভালো আকারভেদে প্রতি পিস ফল ৩০ থেকে ৬০ টাকায় এবং প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে এবং বাড়ি থেকেই ক্রেতারা সরাসরি এই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আনারকলি চাষের পাশাপাশি তিনি বাড়ির উঠানে একটি ছোট নার্সারিও গড়ে তুলেছেন

স্থানীয় বাসিন্দারা সোহেলের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের এই বিদেশি ফলটি ভূঞাপুরে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে চাকরির পেছনে না ছুটে সোহেলের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এটি অর্থনীতিতে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে যদি তিনি চারা উৎপাদন করে এর বিস্তার ঘটাতে পারেন এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, তারা সোহেলের প্যাশন ফ্রুট বাগান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এই বাগান আরও বড় পরিসরে প্রসার লাভ করতে পারে

প্রতারণার শিকার হয়ে হতাশায় নিমজ্জিত না হয়ে নিজের কঠোর পরিশ্রম ও সদিচ্ছাকে পুঁজি করে সোহেলের এই ঘুরে দাঁড়ানো এখন পুরো এলাকার তরুণদের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে তার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক উদ্যোগ ও পরিচর্যা থাকলে ক্ষুদ্র পুঁজি দিয়েও বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator