সৌদি আরবে ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান: কিবলার দেয়ালে মহানবী (সা.)-এর নাম খোদাই.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

সৌদি আরবে ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান: কিবলার দেয়ালে মহানবী (সা.)-এর নাম খোদাই..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
সৌদি আরবে ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান: কিবলার দেয়ালে মহানবী (সা.)-এর নাম খোদাই..
সৌদি আরবে ১৩০০ বছরের প্রাচীন মসজিদের সন্ধান: কিবলার দেয়ালে মহানবী (সা.)-এর নাম খোদাই..
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকালে হিজরি প্রথম শতাব্দীর একটি প্রাচীন মসজিদের সন্ধান মিলেছে, যার কিবলার দেয়ালে মহানবী (সা.)-এর নাম সংবলিত শিলালিপি পাওয়া গেছে।..

সৌদি আরবের আল-বাহা অঞ্চলের আল-মাআল্লামাহ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক আবিষ্কার সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে প্রায় তেরোশো বছর পুরনো একটি প্রাচীন মসজিদের অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সৌদি হেরিটেজ কমিশনের চতুর্থ মৌসুমের খননকাজ চলাকালীন এই প্রাচীন স্থাপত্যটি উন্মোচিত হয়, যা মূলত হিজরি প্রথম শতাব্দীর ইসলামী সভ্যতার প্রাথমিক যুগের নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত। এই আবিষ্কারের সবচেয়ে চমকপ্রদ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো মসজিদের কিবলার দেয়ালে খোদাই করা একটি প্রাচীন শিলালিপি, যেখানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ ও তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করে নির্মিত ১৬ মিটার লম্বা ও ১০ মিটার প্রশস্ত এই মসজিদটি তৎকালীন মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য উদাহরণ, যেখানে মেহরাব, প্রবেশপথ ও মিনারের প্রাথমিক কাঠামোগত অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই আবিষ্কারটি কেবল ধর্মীয় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং আরব উপদ্বীপের প্রাচীন জনবসতি ও স্থাপত্যকলার বিবর্তনের ধারা বুঝতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজের মাধ্যমে মসজিদটির পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় বেশ কিছু পাথরের কক্ষের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই স্থানটি তৎকালীন জনবসতির একটি কেন্দ্রীয় ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। উদ্ধারকৃত নিদর্শনের তালিকায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণের মাটির পাত্র, পানির আধার, পাথরের গৃহস্থালি সামগ্রী, শস্য পেষার জাঁতা এবং হামানদিস্তার উপস্থিতি তৎকালীন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। গবেষকদের মতে, এই নিদর্শনগুলো কেবল ধর্মীয় উপাসনালয়ের কাঠামোর বাইরে ওই সময়ের মানুষের জীবনযাপনের গভীর বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করছে। বিশেষ করে সোনা, রুপা ও তামা উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রাচীন প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। শিলালিপিতে নবীজির (সা.) নাম খোদাই থাকাটা সেই সময়ের মানুষের গভীর ধর্মীয় অনুভূতি এবং মহানবী (সা.)-এর প্রতি তাদের অটুট বিশ্বাস ও ভক্তির এক অকাট্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সৌদি হেরিটেজ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান প্রথম ইসলামী যুগের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর এক নতুন আলোকপাত করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাথরের গায়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী টিকে থাকা এই শিলালিপিটি ইসলামী সংস্কৃতির এক অমূল্য দলিল, যা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। উদ্ধারকৃত সামগ্রীগুলোর যথাযথ রাসায়নিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ চলছে, যাতে প্রাচীন এই বসতির সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঠিক ব্যাপ্তি নির্ণয় করা সম্ভব হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা দাবি করছেন, এই এলাকাটিতে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হলে ইসলামী ইতিহাসের আরও অনেক অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে, যা কেবল সৌদি আরবের নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে।

সামগ্রিকভাবে, আল-মাআল্লামাহর এই আবিষ্কার পরিবহন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম অঞ্চলে প্রাচীন বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে মুসলিমদের দূরদর্শিতার এক অনন্য পরিচয় বহন করে। এই প্রাচীন মসজিদটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং এটি ইসলামী সভ্যতার প্রসারের এক নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্বের এই সাফল্য বিশ্বজুড়ে ইসলামী ইতিহাসের গবেষকদের জন্য নতুন গবেষণার পথ প্রশস্ত করেছে এবং প্রাচীন স্থাপত্যের সুরক্ষা ও সংরক্ষণের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ভবিষ্যতে এই স্থানটি যে ধর্মীয় পর্যটন ও ঐতিহাসিক গবেষণার এক অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হবে, তা বলাই বাহুল্য, যা একই সাথে মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator