ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় ২৬ দিনে ৭ সংঘর্ষ, আহত ১৬ | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় ২৬ দিনে ৭ সংঘর্ষ, আহত ১৬

A R Khalid avatar   
A R Khalid
ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় ২৬ দিনে ৭ সংঘর্ষ, আহত ১৬
ইবিতে তুচ্ছ ঘটনায় ২৬ দিনে ৭ সংঘর্ষ, আহত ১৬
ছবি: সংগৃহীত
****

ইবি প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৬ দিনে (৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) এ ধরনের ঘটনা ৭ বার সংঘটিত হয়। এসব সংঘর্ষে ১৬ এর অধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর ও শিক্ষকসহ অনেকে মারধর এবং হেনস্তার শিকার হন এসব ঘটনায়।

আহতরা হলেন–হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ বর্ষের আলিফ খান, রাহাত আলিফ, সিয়াম খন্দকার, ইয়াসিন আরাফাত ও তোফাজ্জল চৌধুরী, একই বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের আবু রায়হান ও ফাহিম ফাহাদ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের সোহাগ একই বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের হুমায়ুন কবির, বায়োমেডিক্যাল এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ বর্ষের লাবিব একই বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের প্রত্যয়, ফার্মেসী বিভাগের ২২-২৩ বর্ষের জাকারিয়া, আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ বর্ষের আবু সাইদ ও একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলামসহ ১৬ জনের অধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

জানা যায়, গত ৫ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর ও বাহিরে– বাসে উচ্চস্বরে কথা বলা, ১০ টাকার সিগারেটের বিল, খেলায় থ্রো-ইনে সময় ক্ষেপণ, স্লেজিং এবং থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটেছে এসব সংঘর্ষ। এসব সংঘর্ষে প্রদর্শন করা হয়– রামদা, ছুরি, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র। এছাড়াও অনেকেই জড়িয়ে পরেন হাতাহাতি, মারামারিসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়। এর ফলে ক্যাম্পাসে তৈরি হয় ভীতিকর পরিবেশ।

সংঘর্ষের সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে গত ৫ সেপ্টেম্বরে। সেদিন জিয়া হলে শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনূর থাপ্পড় দেন। ঘটনার জের ধরে শিবির কর্মীরা আলীনূরের কক্ষের জানালা ও প্রক্টরের গাড়ির কাচ ভেঙেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর বিকেলে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে। সেসময় তাদেরকে ক্যাম্পাসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। অবরোধ চলাকালীন তাদের সাথে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হন। এ ঘটনা তদন্তে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন।

দ্বিতীয়বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ২০ সেপ্টেম্বর। এদিন শুরু হওয়া আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ৫ম খেলায় সকাল ১১ টায় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের খেলা চলাকালে থ্রো-ইনের বল আনতে গিয়ে সময়ক্ষেপণের অভিযোগে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে লাঠিসোঁটা ও গাছের ডাল নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জনের বেশি আহত হন। 

একই দিনে ৮ম ম্যাচে- বায়োমেডিক্যাল এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্লেজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বায়োমেডিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থী প্রত্যয় আহত হন। পরে, প্রক্টোরিয়াল বডি বিচার ও মীমাংসার উদ্দেশ্যে প্রশাসন ভবনে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আহ্বান করলে পিছন থেকে অতর্কিতভাবে বায়োমেডিক্যালের শিক্ষার্থীরা হামলা করে বলে অভিযোগ উঠে। এতে ফার্মেসী বিভাগের ২২-২৩ বর্ষের শিক্ষার্থী জাকারিয়া গুরুতর আহত হন।

পঞ্চম ঘটনা ঘটে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে। সেদিন ৪টার দিকে আজিজ হলের পকেট গেট সংলগ্ন একটি দোকান থেকে সিগারেট কিনে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান। সাথে নগদ টাকা না থাকায়, সিগারেটের দাম পরিশোধ করাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় প্রায় দুই শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী পকেট গেটে জড়ো হয়ে বিচার দাবি করেন। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত হলে বিচারের আশ্বাসে পরিবেশ শান্ত হয়। পরে অভিযুক্ত দোকানদার ইলিয়াস নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে লিখিত মুচলেকে দিলে এবং বাজার কমিটি দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এরপর ষষ্ঠ ঘটনা ঘটে- ২৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়াগামী ডাবল ডেকার বাস ‘গোধূলী’তে। সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ঘটনায় বাংলা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের রিয়াজুল ইসলাম হৃদয় ও আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আবু সাঈদ আঘাতপ্রাপ্ত হন।

পরদিন, ৩০ সেপ্টেম্বর বাসের ঘটনা মীমাংসার উদ্দেশ্যে দুই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি। সেখানে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মীমাংসা করে দেয় তারা। মীমাংসা শেষে আইসিটি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বের হওয়ার সময় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আচমকা হামলা করেন। এ সময় আইসিটি বিভাগের শিক্ষক শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষার্থী আবু সাইদ আহত হন। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. তারেক হাসান আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মন্জুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম ও আব্দুল বারীকে লাঞ্চিত করা হয়। এছাড়াও এই ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হন।

৫ই সেপ্টেম্বর সংঘটিত  ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম।

খেলায় সংঘটিত সংঘর্ষের তদন্তে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ চলছে। নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ সম্ভব হয়নি।  কমিটির সদস্যদের নিয়ে এখনো বসতে না পারায় কতদিন লাগবে তা নিশ্চিত বলেননি কমিটির আহ্বায়ক মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাঃ তোজাম্মেল হোসেন। 

সর্বশেষ ঘটনার তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ এস এম আয়নুল হক আকন্দ জানান, 'এ বিষয়ে অবগত হয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে।'

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান মুঠোফোনে কোনো মন্তব্য করবো না জানিয়ে সরাসরি দেখা করতে বলেন। পরবর্তীতে সরাসরি দেখা করার উদ্দেশ্যে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator