নিরাপদ শৈশব ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

নিরাপদ শৈশব ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
নিরাপদ শৈশব ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর..
নিরাপদ শৈশব ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত প্রধানমন্ত্রীর..
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের সামগ্রিক সুরক্ষা ও বিকাশে সম্মিলিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।..

মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস উদযাপন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক শিক্ষা ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো শিশুদের যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা। সোমবার দেওয়া এই বাণীতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আজকের শিশুই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল চালিকাশক্তি এবং তাদের সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা কেবল পরিবারের নয়, বরং রাষ্ট্রেরও নৈতিক ও জাতীয় দায়িত্ব। শিশু অধিকার দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিশেষ আয়োজনে তিনি শিশুদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে অভিহিত করে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন।

শিশুদের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি ও তাদের সুরক্ষায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের পথে শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিবাহ এবং নানাবিধ বৈষম্য এখনো বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। এই সামাজিক ব্যাধিগুলো নির্মূলে তিনি কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে যে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে যথাযথ নজরদারির অভাব রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় ও শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সে সময়ের নীতিনির্ধারণী ভূমিকার কথা স্মরণ করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বলয় তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও শিশু একাডেমির অবদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে 'জাতীয় শিশু পুরস্কার' প্রতিযোগিতার মতো সৃজনশীল উদ্যোগগুলো শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যা শিশুদের অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের মতে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া ও সাহিত্যসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে শিশুদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে বর্তমান শিক্ষা কাঠামো ও স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করার দাবি রাখে, যা এই উৎসবের মাধ্যমে পুনরায় সামনে চলে এসেছে।

পরিশেষে, শিশু একাডেমির এই সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্ন ও মানবিক অভিযাত্রার পথ দেখাবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। শিশুদের হাসি, স্বপ্ন ও সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে রূপরেখা তিনি প্রদান করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে। শিশু অধিকার দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তিনি দেশের সব অভিভাবক, শিক্ষক ও শিশুকল্যাণে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থাকে শিশুদের স্বার্থ সুরক্ষায় আরও বেশি তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় এই প্রতিশ্রুতি যদি মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবেই শিশুশ্রম ও বৈষম্যমুক্ত একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম উপহার দেওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

Nessun commento trovato


News Card Generator