জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত চাঁদপুরের হোসনে আরা নিরু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত চাঁদপুরের হোসনে আরা নিরু..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত চাঁদপুরের হোসনে আরা নিরু..
জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচিত চাঁদপুরের হোসনে আরা নিরু..
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও সৃজনশীল পাঠদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের তালতলা বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্র..

জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক-২০২৬’ নির্বাচনে চাঁদপুর সদরের তালতলা বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা নিরু তৃতীয় স্থান অধিকার করে জেলার শিক্ষাঙ্গনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণার পর থেকে স্থানীয় শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। মূলত পাঠদানে উদ্ভাবনী কৌশল, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানোন্নয়ন এবং শিক্ষা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে নিরবচ্ছিন্ন কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এই জাতীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আটটি বিভাগের ২৪ জন প্রতিযোগীর সাথে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত বাছাই ও মূল্যায়নে তাঁর শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দক্ষতা বিচারকদের কাছে উচ্চ মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হয়।

হোসনে আরা নিরুর এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ পরিশ্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ, যা সাধারণ পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এক সৃজনশীল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। ভুক্তভোগী বা অভিভাবক মহলের মতে, একজন প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি বিদ্যালয়ে যে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন, তা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করছে। অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন যে, নিরুর তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী কেবল একাডেমিক শিক্ষাতেই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলাবোধেও বিশেষভাবে দক্ষ হয়ে উঠছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতিকে তিনি যেভাবে আধুনিকায়ন করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করে তুলেছেন, তা মূলত তাঁর এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাঁর এই কাজের ধারা স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে শিখতে পারছে।

এই সাফল্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তারাও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর এই অর্জনকে চাঁদপুরের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানানো হয়েছে যে, হোসনে আরা নিরুর মতো শিক্ষকদের এমন স্বীকৃতি অন্যদেরও শিক্ষাদানে আরও বেশি মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে। এ অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় হোসনে আরা নিরু নিজেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি এবং তাঁর সহকর্মীদের প্রতি, যারা তাঁকে বিভিন্ন সময়ে সহায়তা করেছেন। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক এই স্বীকৃতি কেবল একজন শিক্ষকের সম্মান বাড়ায়নি, বরং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন, সেটিও নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পরিশেষে, হোসনে আরা নিরুর জাতীয় পর্যায়ে এই অর্জন চাঁদপুরের সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা খাতে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে। একজন প্রধান শিক্ষকের এমন সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকেও জাতীয় পর্যায়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব। তাঁর এই অর্জন আগামী দিনে অন্যান্য শিক্ষকদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। চাঁদপুর জেলার শিক্ষা মানচিত্রের এই সাফল্য কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল ও মেধাবী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার সুফল ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরাই দীর্ঘকাল ধরে ভোগ করবে।

Aucun commentaire trouvé


News Card Generator