কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগামী ৬৩ বছরেও ক্ষমতার মসনদে ফিরতে পারবে না। যুগান্তর মাল্টিমিডিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের দেশয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ দেশেই ছিল এবং সে অবস্থায় তাদের পুনরায় রাজনীতি ও ক্ষমতায় ফিরতে দীর্ঘ ২১ বছর সময় লেগেছিল। সেই ঐতিহাসিক হিসাব টেনে তিনি দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলটির ক্ষমতায় ফিরতে অন্তত ৬৩ বছর সময় লাগবে।
শেখ হাসিনার সঙ্গে থাকা সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের দেশে ফেরার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, দলটির বড় বড় নেতারা যদি পালিয়ে থাকার পর দেশে ফিরে এসে শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে নিজেদের নেতা দাবি করেন এবং জনগণের কাছে ভোট চান, তবে সাধারণ মানুষ কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে—সেটিই দেখার বিষয়। জনগণের মুখোমুখি হওয়ার মতো সেই রাজনৈতিক সাহস তাদের আছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “বিদেশে শেখ হাসিনা চলে গেছেন, আর দেশেই এলেই তিনি আবার ক্ষমতায় চলে যাবেন—বিষয়টি এত সহজ নয়।”
তবে দলটির ঐতিহাসিক অবদান ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফজলুর রহমান জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও অবদানের কারণেই মূলত আওয়ামী লীগের নাম এখনো কিছুটা আলোচনায় আসে। এ প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “মুক্তিযুদ্ধ আছে বলেই ভাষা-ভাষাভাবে আওয়ামী লীগের নামটা আসে। কারণ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং পরবর্তীতে দলটির মূল নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ রহমান। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আসলে এই দুই নেতার নাম অনিবার্যভাবে চলে আসে।”