জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনগণের সহমর্মিতা চাইল সরকার, পদত্যাগ দাবি না করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনগণের সহমর্মিতা চাইল সরকার, পদত্যাগ দাবি না করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনগণের সহমর্মিতা চাইল সরকার, পদত্যাগ দাবি না করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার..
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনগণের সহমর্মিতা চাইল সরকার, পদত্যাগ দাবি না করার আহ্বান তথ্য উপদেষ্টার..
ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনগণের সহানুভূতি ও সহমর্মিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তম..

গত রোববার রাতে দেশের বাজারে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা বাড়ানোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে বর্তমান প্রশাসন। এর ঠিক পরপরই মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি বিষয়ক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এই মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে জনমনে সৃষ্ট ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববাজারের বাস্তবতায় এবং অর্থনৈতিক চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প কোনো পথ খোলা ছিল না। সরকার জেনেশুনে বা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে জনগণকে অসন্তুষ্ট করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাতের সংকট বৈশ্বিক পরিসরেও বিদ্যমান এবং উন্নত দেশগুলোকেও জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে, তা প্রশাসন পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পূর্বঘোষণা ছাড়া বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এই ধরনের বড় সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো এবং এর দায়ভার কীভাবে সাধারণ ভোক্তা বহন করবে, তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তীব্র প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারের নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেন।

মূল্যবৃদ্ধির পর জনরোষের মুখে সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের 'সহানুভূতি ও সহমর্মিতা' প্রত্যাশা করা হলেও সাধারণ মানুষ ও বিশ্লেষকরা এই অবস্থানকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করছেন। তথ্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বিগত সরকারের সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে বলেন যে, অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে জ্বালানির দাম বাড়লে তারা শুধু তীব্র প্রতিবাদই করতেন না, বরং সরাসরি পদত্যাগ দাবি করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনকে একটি 'নির্বাচিত সরকার' হিসেবে অভিহিত করে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ধরনের কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান বা পদত্যাগের দাবি না তোলার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের মতে, প্রশাসনের চরিত্র যেমনই হোক না কেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে খেটে খাওয়া মানুষের পকেট যখন খালি হয়ে যায়, তখন সরকারের বৈধতার তাত্ত্বিক আলোচনা তাদের কষ্টের উপশম করতে পারে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, গণতান্ত্রিক লেবাস পরে বা নির্বাচিত হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনদুর্ভোগ যখন চরমে পৌঁছায়, তখন জনগণের সহানুভূতি চাওয়ার চেয়ে নীতিনির্ধারক মহলের উচিত ছিল বিকল্প ভর্তুকি বা জনবান্ধব উপায়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা।

এই সমালোচনার জবাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পেছনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো সরাসরি চাপ বা কঠোর শর্ত ছিল না। আইএমএফের সাধারণ নীতি কেবল অতিরিক্ত ভর্তুকি এড়ানোর কথা বললেও সরকার নিজস্ব বিবেচনা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা মাথায় রেখেই সব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির নিয়ম অন্ধভাবে মেনে চলছে না বলে দাবি করা হয়। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রাজনৈতিক ঝুঁকি মাথায় রেখেই সরকার এই অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দেন যে, অতীতের মতো জবরদস্তি বা কারচুপি করে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার কোনো সংস্কৃতি এই সরকার ফিরিয়ে আনবে না। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্থিতিশীল রয়েছে এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের বাইরে কেউ যদি ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়, তবে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে সরকারের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির এই আকস্মিক ধাক্কা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থায় এক সুদূরপ্রসারী ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরিবহন খাতের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে, যা ইতিমধ্যে সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সরকারের তরফ থেকে যতই সহানুভূতি বা সহমর্মিতা কামনা করা হোক না কেন, বাস্তবমুখী ও টেকসই অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ছাড়া কেবল রাজনৈতিক যুক্তির মাধ্যমে জনরোষ ঠেকানো সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে যদি এই মূল্যস্ফীতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তবে তা কেবল সাধারণ মানুষের অসন্তোষই বাড়াবে না, বরং সরকারের নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা নিয়েও জনমনে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দেবে। তাই জনগণের জীবনযাত্রার মান সুরক্ষিত রাখতে এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে প্রশাসনকে অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ভর্তুকি নীতি এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করার মাধ্যমে জনবান্ধব সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। অন্যথায়, রাজনৈতিক বৈধতার বয়ান দিয়ে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকট এড়ানো কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

Nema komentara


News Card Generator