বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেলের ৭২তম চালান.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেলের ৭২তম চালান..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেলের ৭২তম চালান..
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেলের ৭২তম চালান..
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেলের ৭২তম চালান দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।..

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার মেট্রিক টন বা প্রায় সাতচল্লিশ লাখ লিটার ডিজেল আমদানির ৭২তম চালান সফলভাবে দেশের ভূখণ্ডে এসে পৌঁছেছে। গত বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে জানা যায় যে, দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে এই বড় চালানটি গ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় এই জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল এবং একটানা প্রক্রিয়া শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর তা সম্পন্ন হয়। পার্বতীপুর রেল ডিপোর পরিচালন ব্যবস্থাপক মো. রবিউল আলম গণমাধ্যমের কাছে এই জ্বালানি আমদানির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পাইপলাইন প্রকল্পটি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে, যা বহু বছর ধরে চলে আসা প্রচলিত আমদানির পথগুলোকে আরও সুদৃঢ় ও সহজতর করেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে এই পাইপলাইন অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। দীর্ঘমেয়াদী এই প্রকল্পের অধীনে নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের চালান আসায় দেশের উত্তর জনপদে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক রয়েছে এবং তা স্থানীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। সাম্প্রতিক এই চালানের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।

দুই দেশের জ্বালানি বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রেক্ষাপটে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৫ বছরের মেয়াদে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে বহু প্রতীক্ষিত এই পাইপলাইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে সর্বমোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। বর্তমান অবকাঠামো অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে ভৌগোলিক নৈকট্য ও সাশ্রয়ী পরিবহন ব্যবস্থার কারণে এই রুটের কার্যকারিতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হলে, সংকট মোকাবিলায় এই পাইপলাইনের ওপর নির্ভর করে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে এপ্রিল, মে এবং জুলাই মাসে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৮ হাজার ও ৮ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল ভারত থেকে আমদানি করা হয়। সর্বশেষ গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল, যার দ্রুত ইতিবাচক সাড়ার ফলশ্রুতিতেই এই নতুন চালানটি পার্বতীপুর ডিপোতে এসে পৌঁছেছে। জ্বালানি আমদানির এই ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং আকস্মিক কোনো সরবরাহ ঘাটতি এড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

দেশের জ্বালানি খাতের আমদানিনির্ভরশীলতা ও সাপ্লাই চেইনের সুরক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মতো বিকল্প ও আধুনিক পরিবহন মাধ্যম অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সড়ক বা জলপথের পরিবর্তে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির ফলে পরিবহন খরচ যেমন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি সময়ও বাঁচছে বহুগুণ। অতীতে প্রথাগত উপায়ে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে নানা ধরনের লজিস্টিক জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হতো, যা বর্তমান ব্যবস্থায় অনেকাংশেই নিরসন হয়েছে। পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোর আধুনিকায়ন এবং এর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে উত্তর অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নের গতি বজায় রাখতে জ্বালানি খাতের বহুমুখীকরণ অপরিহার্য। ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই পাইপলাইন প্রকল্প কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এবং জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সহযোগিতাকে আরও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানির এই সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সার্বিক এই ব্যবস্থাপনা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং শিল্প-কারখানা ও কৃষি খাতে সেচের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বড় সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator