চাঁদপুরের পালবাজারে মুরগি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির অভিযোগ, ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত শুরু.. | আই নিউজ বিডি | বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও ভিডিও

চাঁদপুরের পালবাজারে মুরগি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির অভিযোগ, ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত শুরু..

Akhter Hossain avatar   
Akhter Hossain
চাঁদপুরের পালবাজারে মুরগি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির অভিযোগ, ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত শুরু..
চাঁদপুরের পালবাজারে মুরগি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ওজনে কারচুপির অভিযোগ, ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত শুরু..
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের পালবাজারে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ওজনে কম মুরগি সরবরাহের অভিযোগে জাহিদ ব্রয়লার হাউজের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।..

গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী পালবাজারে জাহিদ ব্রয়লার হাউজের মালিক মো. বিল্লাল গাজীর বিরুদ্ধে মুরগি বিক্রিতে প্রতারণা ও ওজনে কম দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভুক্তভোগী মো. আবুল হাসেম গাজীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে এবং জেলা পুলিশের সহযোগিতায় এই অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মূলত মেয়ের বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজনে ১০০টি ব্রয়লার মুরগির অর্ডারের বিপরীতে চুক্তি অনুযায়ী ৮৫০ থেকে ৯০০ গ্রামের স্থলে মাত্র ৩৫০ থেকে ৭০০ গ্রামের মুরগি সরবরাহ করার গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়ার পরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেષণে দেখা যায়, এই ধরনের জালিয়াতি কেবল একজন ক্রেতার আর্থিক ক্ষতিই সাধন করেনি, বরং একটি বড় সামাজিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়নের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা ভোক্তা অধিকার আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত আবেদন করেন, যার প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

অভিযোগের গভীরতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই প্রতারণার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী আবুল হাসেম গাজী কেবল মুরগি নয়, বরং মাংস ক্রয়ের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়মের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, বিয়ের আয়োজনকে ত্রুটিহীন করতে তিনি আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে গরু ও খাসি ক্রয়ের পাশাপাশি জবাইয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন, যেখানেও প্রায় ৩০ কেজি গরুর মাংসসহ নির্দিষ্ট অংশ সুকৌশলে সরিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী যখন সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রতিবাদ জানান, তখন তাকে সন্তোষজনক প্রতিকার দেওয়ার বদলে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বাজারের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের আবেগ, সামাজিক বাধ্যবাধকতা এবং দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের কারচুপি চালিয়ে আসছে। ভুক্তভোগীর সরাসরি বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ে সফল করতে তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে ধার-দেনার আশ্রয় নিয়েছিলেন, অথচ ব্যবসায়ীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও প্রতারণামূলক আচরণের ফলে তাকে অপূরণীয় আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তদন্তের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল গাজী এবং অভিযোগকারী উভay পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাজারে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্রয়লার হাউজে গিয়ে সরাসরি মুরগির ওজন পরীক্ষা করা হয়, যেখানে পরিষ্কার করার পর একটি মুরগির ওজন প্রায় ৬৩০ গ্রাম পাওয়া গেছে। তবে এই ওজনের তারতম্য এবং অভিযোগের সত্যতা আইনি কাঠামোর ভেতর কতটা জোরালো, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে দেখছে অধিদপ্তর। সংস্থাটির দায়িত্বশীল কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, তদন্তে উপযুক্ত প্রমাণ ও অনিয়মের সত্যতা মিললে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে স্থানীয় ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ দাবি করেছে যে, অভিযুক্ত ব্রয়লার হাউজের মালিকের বিরুদ্ধে অতীতেও ওজনে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে জরিমানার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ফলে এই ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক অপরাধ রোধে কেবল সাময়িক তদন্ত নয়, বরং প্রশাসনের তরফ থেকে নিয়মিত ও কঠোর নজরদারি বজায় রাখার জোর দাবি উঠেছে।

চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী এই বাজারে এই ধরনের অনিয়মের ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার ফলে সাধারণ ক্রেতা সাধারণের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে যদি এই মাত্রায় ওজনে কম দেওয়া এবং সামাজিক আয়োজনকে জিম্মি করে প্রতারণার সংস্কৃতি চালু থাকে, তবে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি স্থানীয় বাজার কমিটির কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। পরিমাপের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা গেলে পালবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে ভোক্তাদের আস্থা চিরতরে হারিয়ে যাবে। তাই এই তদন্তের একটি ন্যায়সম্মত ও দৃশ্যমান পরিণতি সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা পালন করবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।

コメントがありません


News Card Generator