দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ভ্রমণবিষয়ক সংগঠন ‘আমরা ভবঘুরের দল’। গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকার বোকরান মনিপুর থেকে কার্যক্রম শুরু করা এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত ভ্রমণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে আসছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর এবং গাজীপুরের বিভিন্ন ন্যাশনাল পার্ক ও সাফারি পার্কে সফল ট্যুর পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। মূলত দেশের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে পর্যটন মানচিত্রে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরাই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। প্রতি মাসে অন্তত একটি বড় ধরনের ট্যুর আয়োজনের মাধ্যমে তারা সদস্যদের ভ্রমণ তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি পর্যটন খাতের বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। হাইয়েস মাইক্রোবাস কিংবা ট্রেনের মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তারা বর্তমানে দেশীয় পর্যটনে মনোযোগ দিলেও ভবিষ্যতে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভ্রমণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার রূপ দিতে সম্প্রতি এক বিশেষ সাধারণ সভায় একটি পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাহাবুর রহমান মাহাবুবকে সভাপতি ও প্রধান সমন্বয়ক এবং মোবারক সিকদার রকিকে সহ-সভাপতি ও ট্যুর পরিচালনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন রাইহান বাবু, বিনোদন ও ইভেন্ট সম্পাদক ইমামুল বিশ্বাস জনি এবং সৃজনশীল ও মিডিয়া সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন আনিসুর রহমান আনিস। পাশাপাশি আমিনুল ইসলাম মিলন, এস এম মিলন মিয়া, ইসমাইল হোসাইন সিরাজী, আরিফুল ইসলাম আরিফ এবং ফরহাদ হোসাইনকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন কমিটি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিটি ট্যুরের নিরাপত্তা ও মান নিশ্চিত করতে কাজ করবে বলে জানা গেছে। সদস্যদের মতে, ভ্রমণের মাধ্যমে কেবল বিনোদন নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সাথে নিবিড় সংযোগ স্থাপনই তাদের মূল চালিকাশক্তি। প্রতিটি ট্যুর আয়োজনে সদস্যদের নিরাপত্তা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সংগঠনটির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, পর্যটন কেবল আনন্দ ভ্রমণের মাধ্যম নয়, বরং এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার অন্যতম মাধ্যম। "পাহাড়, সমুদ্র, ঝর্ণা কিংবা অজানার পথে, আমরা বেরিয়ে পড়ি একসাথে" এই স্লোগানকে ধারণ করে তারা তাদের ভ্রমণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, 'আমরা ভবঘুরের দল'-এর মতো ছোট ছোট ভ্রমণ সংগঠনের এই ধরনের সুসংগঠিত কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। একইসাথে স্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের আগমন বাড়লে সেখানকার স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা সংগঠনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে তারা দায়িত্বশীল পর্যটন বা রেসপন্সিবল ট্যুরিজম চর্চার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটন কেন্দ্রের পবিত্রতা বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
ভবিষ্যতে এই সংগঠনের কার্যক্রম কেবল ভ্রমণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পর্যটন সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে প্রচারের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যটন শিল্পকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। তাদের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা যদি বজায় থাকে, তবে দেশের পর্যটন খাতে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং তরুণরা ভ্রমণের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে আরও গভীরভাবে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিটি সফল ট্যুর পরিচালনার মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রমাণ করছে, যা আগামী দিনে পর্যটন খাতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিশেষে, ভ্রমণপিপাসুদের একটি সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে 'আমরা ভবঘুরের দল' আগামী দিনে দেশের পর্যটন মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।